আইবিএস রোগীর খাবার তালিকা
আইবিএস রোগীর খাবার তালিকা– বর্তমান সময়ে খুবই মারাত্মক একটি রোগের নাম হলো আইবিএস। ছোট থেকে শুরু করে প্রায় সকল বয়সী মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দিন দিন আইবিএস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলে। আইবিএস রোগকে কখনো নির্মূল করা যায় না। কিন্তু আপনি চাইলে আইবিএস রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
আইবিএস রোগ নিয়ন্ত্রণ করার পেছনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে খাবার তালিকা। অর্থাৎ আপনি যদি নিয়মমাফিক জীবন যাপন করেন তাহলে আইবিএস রোগ নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আপনার আইবিএস রোগ যদি নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে আপনাকে পেটের সমস্যায় পড়তে হবে না।
তাই আপনাদের সুবিধার জন্য আজকে আমরা আইবিএস রোগীর খাবার তালিকা, আইবিএস থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়, আইবিএস রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করব। আপনি যদি আইবিএস রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে চান। তাহলে আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
আইবিএস এর লক্ষণ প্রথমিক লক্ষ্মণঃ-
- রোগীর পাতলা পায়খানা বা কষা পায়খানা দেখা দিতে পারে।
- এর পর পেট ভুটভাট, পেট ফাঁপা, ফুলে যেতে পারে।
- প্রচুর পরিমানে পেটে গ্যাস হয়।
- খাবারের পর পেট মুচড় দিয়ে বাতরুম যাওয়া লাগতে পারে।
- প্রচুর পরিমানে সাদা সাদা থকথোকে আম যায়।
- কারো ফেনা ফেনা যায়।কারো খাবারের পর পেট ব্যথা করে। কারো কারো আবার খালি পেট হলেই পেটে চিনচিন,ঘিনঘিন অসহ্যকর ব্যথা করে।
এই অবস্থায় অনেকে গ্যাস্টিকের ও এন্টিবায়োটিক নিয়মিত ঔষধ খেয়ে খেয়ে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট করে দেয়। আপনি জানেন দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেলে ভালো ও খারাপ বাকটেরিয়া উভয় মারা যায়।
ফলে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায় অপরদিকে দীর্ঘদিন গ্যাস্টিকের ঔষধ খেলে হাইডোক্লোরিক এসিড বাধাপ্রাপ্ত হবার কারনে হজমপ্রকৃয়া শুন্যকোঠায় আসে।যার কারনে কোন খাবার হজম হতে চায় না।
একসময় গাসের ঔষধের মাধ্যমে তাদের হজম করার চেষ্টাও ব্যরথ হয়। একসময় কোন ঔষধে কাজ করে না। কারো ক্ষেত্রে আলসার দেখা দেয়।কারো কারো ক্যনসার দেখা দেয়।
আইবিএস রোগীদের মারাত্মক অবস্থা লক্ষ্মণঃ-
- অবিবাহিতরা বিয়ে করার খমতা হারিয়ে ফেলে।
- বিবাহিতদের যৌন খমতা হারিয়ে ফেলে।
- মেজাজ অলটাইম খিটমিটে থাকে।
- কাজের প্রতি অনিহা ।
- কারো অধীনে চাকুরী করার মানসিকতা থাকে না।
- একটুতেই মেজাজ গরম হয়ে যাবার কারনে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করে।
- সবকিছু পেয়েও যেন পৃথিবীতে নিজেকে অসহায় মনে হয়।
- অনেকে কর্ম হারায় বিদেশে থাকতে পারে না।
- দীর্ঘদিন এই রোগে ভুগলে নার্ভের সমস্যা হয়।
- কোমরে ব্যথা অনুভত হয়।সাথে শরীরে বাথ্যা করে।
- কারো ক্ষেত্রে মাসে ২/৩ বার পাতলা পায়খানা যেতে পারে।এটা দিনে ৮/১০বারও হতে পারে।
- রীরের ওজন কমে যায়।
- রোগা রোগা ভাব মনে হয়।
- খাবার খেতে ভয় হয় যদি বাতরুমে যেতে হয় ইত্যাদি।
আইবিএস রোগীর খাবার তালিকা
আমরা সবাই জানি কোন রোগের প্রতিষেধকের চেয়ে, প্রতিরোধ করাই উত্তম। এই কারণে আইবিএস রোগের ঔষধ না খুঁজে, এ রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায় তা নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই আইবিএস রোগের এলোপ্যাথিক,হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক বিভিন্ন চিকিৎসা করেছেন।
বর্তমানে আমার অজানা মতে কোন চিকিৎসার ব্যবস্থাতে আইবিএস রোগের পুরোপুরি ট্রিটমেন্ট নেই। আইবিএস রোগের স্থায়ী সমাধান হল আপনাকে নিয়মমাফিক জীবন যাপন করতে হবে। আপনি যদি আইবিএস রোগ থেকে মুক্তি পেতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে নিচের ডায়েট কন্ট্রোল মেনে চলতে হবে।
অর্থাৎ আপনার যে খাবারগুলো খেলে সমস্যা হয়। সেই খাবারগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে আইবিএস রোগীর তেল জাতীয় কোন খাবার খাওয়া যাবে না। এরকম অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে আইবিএস রোগের সমস্যা আরো বেড়ে যায়। এ কারণে আইবিএস রোগের খাবার তালিকা নিয়ে আজকের বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
খাবারের তালিকা সকালে
রুটি (IBS PowderPowderদিয়ে)
সকাল ১০টায় নিন্মের তালিকার যে কোন ১টি ফল খাবেনঃ-
১. কমলা ১টি
২.মাল্টা ১টি
৩.পেয়ারা১টি
৪.কলা ৩/৪টি
বিঃদ্র একসাথে দুরকম ফল খাবেন না।
খাবারের তালিকা দুপুরে
দুপুরে ১প্লেট গরম আলোচাউলের ভাত।
বিকাল ৪/৫টার দিকে সকালে যে ফল গুলো খেতে বলেছি ওর মধ্যে যেটা সকালে খেয়েছেন ঔটা বাদে যে কোন রুচি মত একটা ফল খান অথবা মুড়ি/চিড়া খান (আস্তেধীরে চিবিয়ে চিবিয়ে)
খাবারের তালিকা রাতে
রাতে ঘুমানোর ২/৩ঘন্টা আগে আবার গরম ভাত খাবেন ১প্লেট।
যে খাবার গুলো খাবেন না
মশুর ডাল
কাচা টমেটো,শসা
নারিকেল
আপেল
আংগুর
বাদাম
শিম
পাতা কপি
আইবিএস থেকে মুক্তির উপায় ও চিকিৎসা
- নিয়মিত সালাত আদায় ও কুরআন পড়বেন।
- টেনশন মুক্ত থাকবেন।
- ফিল্টার বা ভালো ভাবে ফুটিয়ে পানি পান করুন।
- শুকনা মরিচ+টমেটো +ধনিয়া পাতা পরিহার করুন।
- আলো চাউলের ভাত খাবেন।
- লিকার চা খাবেন দিনে ২/১টি।( বিশেষ প্রয়োজনে)ফোনে জেনে নিবেন।
- গ্লুটেন্ট+ক্যাসিন+ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করবেন।
- সবার কথা বাদ দিন, আপনি ভালো হবেন এটা মনে রাখুন।
- খাবারের সময় পেটের তিনভাগের এক ভাগ খান।
- খাবারের ৩০মিনিট আগে পরে পানি পান করুন।
- নিয়মিত ব্যয়াম করুন
- খাবারের পর ২০মিনিট হাঁটুন।
- রাত্রে ঘুমানোর ২/৩ঘন্টা অাগেই খাবার শেষ করুন।
- ঘুমানোর সময় আদা এক টুকরা/কাচা হলুদ এক টুকরা বা অল্প পরিমান মধু একগ্লাস পানিতে দিয়ে পান করুন।একসাথে সব খাবেন না।
- ঘুম থেকে উঠেই কুলি না করেই এক গ্লাস পানি পান করুন(ফিল্টারিং)
- খিতে লাগলে হাতের কাছে মুড়ি/চিড়া রাখুন ২/১মুট খান।পরে পানি পান করুন।
- ত্রিফলা রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালিপেটে পানি পান করুন।
আমন্ড বাদাম খাওয়ার উপকারিতা কি
.png)
.jpg)
.png)