মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার
মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার: কোমর ব্যথা আজকাল মধ্যবয়সী এমনকি তার নিচের বয়সী মানুষদের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। কোমর ব্যথায় স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সাধারণত, পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে কোমরে ব্যথার সমস্যা বেশি তীব্র ভাবে দেখা যায়।
এ কারণে আপনাকে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়াও আপনার যদি প্রচন্ড রকমের কোমর ব্যথা করে তাহলে তার প্রতিকার করতে হবে দ্রুত। এই কারণে আপনাদের সুবিধার জন্য আজকে মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই আপনি আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ
পুরুষদের তুলনায় নারীদের বেশি কোমর ব্যথার কারণ,সাধারণত বিয়ের পর মহিলাদের ওজন অনেকটা বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ওজনের কারণে কোমরের মাংসপেশি এবং হাড়ের ওপর চাপ পড়ে। গর্ভধারণের শুরুতেই কিছু হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে গিয়ে যেমন- প্রজেস্টেরন এবং রিলাক্সিন হরমোন সন্তান জন্মদানের প্রস্তুতি হিসেবে কোমরের বিভিন্ন জয়েন্ট এবং লিগামেন্টসকে নরম এবং ঢিলা করে দেয়। এর ফলে,মায়ের শরীর অস্থিতিশীল হয়ে ওঠেজয়েন্টের ভার বহন ক্ষমতা কমে যায় হাঁটার সময়, অনেক বসে থাকলে, নিচে চেয়ার থেকে ওঠার সময় বা কোন কিছু তোলার সময় ব্যথা অনুভূত হয়।
বাচ্চাকে সময় দিতে যেয়ে কায়িক শ্রম এর অভাব বা নিয়মিত ব্যায়ামের অভাবে পেট ও পিঠের মাংসপেশি চাপ ধরে যায়। কোমর ব্যথা সাধারণত বয়সের সাথে সাথে বাড়ে। বেশি দেখা যায় ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সের পর থেকে। শারীরিক সমস্যা থেকে কোমর ব্যথা
পেশি, হাড়, জোড়া, লিগামেন্ট, জোড়ার আবরণ, ডিস্ক (দুই কশেরুকার মধ্যে থাকে) এর সমস্যা। স্নায়ুর রোগ বা ইনজুরি,বুক, পেট ও তলপেটের মধ্যকার বিভিন্ন অঙ্গের সমস্যার।
লাইফ স্টাইলে সমস্যার জন্য অফিসে দীর্ঘক্ষণ বসে একই ভঙ্গিতে কাজ করা। বসার চেয়ার টেবিল ঠিকমতো না হলে বা সঠিক ভঙ্গিতে না বসলে।দীর্ঘক্ষণ ড্রাইভিং করলে বা বেশি সামনে ঝুঁকে গাড়ি। চালালে কোমর ব্যথা হতে পারে।শুয়ে বা কাত হয়ে বই পড়লে বা অন্য কাজ করলে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারী জিনিস সঠিক নিয়মে না তোলার কারণে মেরুদন্ডে চাপ পড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলে
মহিলাদের কোমর ব্যথার চিকিৎসা
কোমর ব্যথার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা নিরাময় করা এবং কোমরের নড়াচড়া স্বাভাবিক করা। কিছু বিষয় অবশ্যই মেনে চলতে হবে। পরিপূর্ণ বিশ্রামে তীব্র ব্যথা কমে গেলেও ওজন তোলা, মোচড়ানো পজিশন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও সামনে ঝুঁকে কাজ করা বন্ধ করতে হবে সঠিক উপায়ে বসার অভ্যাস করতে হবে| প্রয়োজনে ব্যাক সাপোর্ট ব্যবহার করতে হবে|
কোমর ব্যথা হলে-
গরম সেঁক (গরম প্যাড, গরম পানির বোতল বা উষ্ণ পানিতে গোসল) নিতে হবে।
পেশি নমনীয় ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে। একই সাথে ঠান্ডা ও গরম সেঁক থেরাপি নিতে পারেন। ১০ মিনিট গরম সেঁক নিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন, কিছুক্ষণ পর আবার ঠান্ডা পানি বা বরফ চেপে ধরুন। এভাবে কয়েকদিন করলে ব্যথা একেবারে না সারলেও আরাম পাবেন।
কাজের জায়গা ঠিক করুন। সারাদিন চেয়ার টেবিলে বসে কাজ করার দরকার পড়লে চেয়ারের সাথে পিঠ যেন ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন এবং পা যেন ফ্লোর-এ সমানভাবে রাখা যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।
হাঁড়ের পুষ্টির জন্য খাবার খান। নিয়মিত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার খান। যেমন, শাকসবজি, দুধ, ডিম, ওটমিল, সামুদ্রিক মাছ, কড লিভার অয়েল ইত্যাদি।
ঘুমানোর জায়গা এবং পজিশন ঠিক করুন। চিত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। নরম বিছানা পরিহার করুন। শক্ত বা ফ্ল্যাট ম্যাট্রেস-এ ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
নিয়মিত যোগব্যায়াম স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এটি শুধু পিঠ বা কোমর ব্যথা কমায় তা নয়, শরীরকে সুস্থ ও ফিট রাখতেও সাহায্য করে। বারবার ঝুঁকে বা বাঁকা হয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকুন। পিঠ সোজা করে বসার এবং দাড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। কখন অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে? কোমরে ব্যথার পাশাপাশি কিছু কিছু সিম্পটমস আছে যা অনেক রোগের অ্যালার্মিং সাইন।
- যদি কোমরে ব্যথার সাথে সাথে প্রস্রাব বা পায়খানার কোন পরিবর্তন খেয়াল করেন।
- যদি সাথে জ্বর থাকে।
- আঘাত পেলে বা কোন প্রকার ট্রমা হলে।
- যদি ব্যথার তীব্রতা প্রচন্ড আকার ধারণ করে এবং রেস্ট নিলেও না কমে।
- ব্যথা যদি এক বা দুই পায়েই নেমে যায়, বিশেষ করে হাটুর নিচে।
- যদি ব্যথার সাথে সাথে দূর্বলতা, অবশ ভাব বা পায়ে ঝিম ঝিম অনুভুতি হয়।
- যদি ব্যথার সাথে সাথে ওজন কমতে থাকে।
- যে কোন প্রকার স্টেরয়েড ওষুধ খাওয়ার পর যদি ব্যথা শুরু হয়।
- যদি আপনার অতিরিক্ত মদ পান বা সিগারেট-এর বদভ্যাস থাকে।
মহিলাদের কোমর ব্যথার ব্যায়াম
কোমর ব্যথার চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো ব্যথা নিরাময় করা এবং কোমরের নড়াচড়া স্বাভাবিক করা। পূর্ণ বিশ্রাম কিন্তু দীর্ঘদিন বিশ্রাম নিলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যায়। তীব্র ব্যথা কমে গেলেও ওজন তোলা, মোচড়ানো পজিশন, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম ও সামনে ঝুঁকে কাজ করা বন্ধ করতে হবে। সঠিক উপায়ে বসার অভ্যাস করতে হবে এবং প্রয়োজনে ব্যাক সাপোর্ট ব্যবহার করতে হবে।
গরম সেঁক (গরম প্যাড, গরম পানির বোতল বা উষ্ণ পানিতে গোসল) নিতে হবে। পেশী নমনীয় ও শক্তিশালী হওয়ার ব্যায়াম করতে হবে। কিছু ব্যায়াম কোমরব্যথা প্রশমনে সাহায্য করে, এমনকি ওষুধের চেয়েও ভালো ফল দেয়। এই ব্যায়াম প্রতিদিন রাতে ও সকালে বিছানায় শুয়ে শুয়ে করতে পারেন। সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৭ মিনিট।
১. সমতল হালকা নরম বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে দুই হাত শরীরের দুই পাশে রেখে দুই পা সোজা করে শুতে হবে। হাঁটু ভাঁজ না করে এক পা ওপরের দিকে তুলুন যতদূর সম্ভব। ১০ সেকেন্ড পা তুলে রাখতে হবে। একইভাবে অপর পা ওপরে তুলুন এবং একই সময় নিন।
২. এবার একইভাবে হাঁটু ভাঁজ না করে একসঙ্গে দুই পা তুলুন এবং একই সময় নিন।
৩. এবার এক হাঁটু ভাঁজ করে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে হাঁটুকে বুকে লাগানোর চেষ্টা করুন।
১০ সেকেন্ড থাকুন। একইভাবে অপর হাঁটু বুকে লাগাতে হবে।
৪. একসঙ্গে দুই হাঁটু ভাঁজ করে দুই হাতে জড়িয়ে বুকে লাগাতে হবে।
৫. সর্বশেষ দুই পা সোজা করে পায়ের পাতার দিকে সটান করে ১০ সেকেন্ড রাখতে হবে।
প্রতিটি ধাপ ১০ সেকেন্ড দীর্ঘায়িত হবে বা ১০ গোনা পর্যন্ত করতে হবে।
পরিশেষে কিছু কথা
এই ছিল আজকে আমাদের মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আজকে আপনাদের সামনে কোমর ব্যথা কি কি কারন রয়েছে তা আলোচনা করেছি। এছাড়াও আপনার যদি কোমর ব্যাথা হয়ে থাকে। তাহলে কিভাবে তা প্রতিকার করবেন সেগুলো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এজন্য আজকের আর্টিকেল আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনি চাইলে আমাদের আজকের আর্টিকেল ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার করতে পারেন। মহিলাদের কোমর ব্যথার কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এরকম আরো স্বাস্থ্য বিষয়ক টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
.jpg)