বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক সে সম্পর্কে আপনি জানতে চাচ্ছেন? তাহলে আজকের এই আর্টিকেল শুধুমাত্র আপনার জন্য। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের বেকারের হার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কারন আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি ভালো না। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কারণে বেকারত্বের হার কোন ক্রমেই কমছে না।
আমার দেখা যায় আমাদের সমাজে এমন অনেক তরুণী বেকারই রয়েছেন,যারা নিজেরা উদ্যোক্তা হতে চায়। তবে যেকোনো ব্যবসা শুরু করার জন্য পুঁজি দরকার হয়। সেই পুঁজি একজন তরুণ বেকারের থাকে না। সর্বশেষ একজন তরুণ বেকার ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার কথা চিন্তা করে।
তবে আমাদের দেশের তথাকথিত ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হলে আপনাকে কিছু জামানত দিতে হবে। দেখা যায় জামানতের ভয়ে অনেক তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় না। অকালেই ঝড়ে পড়ে একজন তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন।
কিন্তু বর্তমান সময়ে একজন উদ্যোক্তা হওয়া তরুনের ইচ্ছাপূরণ করা সম্ভব। কারণ বিনা জামাতে পাচ্ছেন আপনি ব্যাংক লোন। তাই আপনাদের সামনে আজকে এমন একটি ব্যাংকের নাম উল্লেখ করব। যার মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ বিনা জামানাতে ঋণ নিতে পারবেন। চলুন বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক তা দ্রুত দেখে নেই।
বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক
নতুন যেকোনো ব্যবসা শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। টাকা বিনিয়োগ করা ছাড়া আপনি কোন ব্যবসার শুরু করতে পারবেন না। তবে দেখা যায় আমাদের সমাজে নতুন যে সকল তরুণ তরুণেরা ব্যবসা করতে চায়। তাদের অধিকাংশের বিনিয়োগ করার মত অর্থ থাকে না।
এই কারণে সবাই ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে চায়। তবে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেও বিভিন্ন ধরনের শর্ত আপনাকে জুড়ে দেবে। এছাড়াও নতুন অবস্থায় ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া অনেক কঠিন। এ কারণে আমরা খুজে থাকি বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক।
বর্তমান সময়ে বিনা জামানতে ঋণ দিচ্ছে কর্মসংস্থান ব্যাংক। সাধারণত বাংলাদেশের বেকারত্ব দূর করার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক এর সূচনা হয়। তাই আপনি সম্পূর্ণ বিনা জামানাতে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। চলুন এ ব্যাংক থেকে কিভাবে আপনি বিনা জামানাতে ঋণ নিবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেখে নেই।
বিনা জামানতে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা
কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ঋণ পাওয়ার জন্য আপনাকে কিছু যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। চলুন দেখে নেই, কি কি যোগ্যতা সমূহ আপনাকে মেনে চলতে হবে।
- সর্বপ্রথম আপনাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- আপনি যে কাজের জন্য লোন নিবেন, সে কাজের সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- ঋণ নীতিমালা মানার জন্য একনিষ্ঠ হতে হবে।
- ঋণখেলাপিরা ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেনা।
উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ করতে পারলেই আপনি কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন সহজেই। এছাড়াও আমি যদি অন্যান্য কোন যোগ্যতা বা শর্ত থাকে। তাহলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দেবে।
কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার কাগজপত্র
উপরোক্ত শর্তগুলো ছাড়াও লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দিতে হবে। কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে তা দেখে নিন।
- ঋণ আবেদনের জন্য ফরম।
- আবেদনকারীর ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি।
- দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি।
- আপনি যাকে দিয়ে নমিনি করবেন, তার দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- উদ্যোক্তা বা আন্ডারে স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র।
- উদ্যোক্তা গ্যারান্টার এর দলিলের ফটোকপি এবং নিকটস্থ ইউপি চেয়ারম্যান অথবা মেয়র সিটি কর্পোরেশন কাউন্সিলর কর্তিক নাগরিকত্ব সনদ।
- আপনি যদি ১ লক্ষ টাকার ওপরে লোন নিতে চান তাহলে ট্রেড লাইসেন্স এর কপি প্রয়োজন হবে।
উপরোক্ত কাগজপত্র ছাড়াও পিতা- মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি। প্রয়োজন ক্ষেত্রে লাগতে পারে। এছাড়াও যদি অন্যান্য কোন কাগজপত্র লাগে। তাহলে অবশ্যই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে জানিয়ে দেবে।
শেষ কথা
আশা করি, বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক তা আপনি এখন জানতে পেরেছেন। কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে আপনি খুব সহজেই বিনা জামানতে ঋণ নিতে পারবেন। এইজন্য উপরোক্ত কাগজপত্র গুলো নিয়ে আপনি সরাসরি আপনার নিকটস্থ কর্মসংস্থান ব্যাংকে যোগাযোগ করুন।
এছাড়াও কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও টেলিফোন নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। তো বন্ধুরা, আজকের আর্টিকেল কেমন লাগলো তা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এর পাশাপাশি বিনা জামানতে ঋণ দেয় কোন ব্যাংক সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন থাকে মন্তব্য করতে পারেন।
