ছবি কালার করার অ্যাপস
ছবি কালার করার অ্যাপস: বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারীদের জন্য বা সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য একটি সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছবির গুরুত্ব অনেক বেশি। বিশেষ করে আমরা প্রতিদিন প্রায় ফেসবুকে বিভিন্ন রকমের ছবি আপলোড করে থাকি। যেহেতু আমরা সবাই এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারী সেক্ষেত্রে আমাদের ছবিটা বেশি পরিষ্কার হয় না। এছাড়াও আমরা তো প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার নয় যে ছবি তোলা খুবই সুন্দর হবে।
তবে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার না হলেও এমন কিছু ছবি কালার করার অ্যাপস রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে আপনার ছবিটি আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। আজকে মূলত আপনাদের সামনে ছবি কালার করার অ্যাপস ও ছবি কালার করার সফটওয়্যার সম্পর্কে আলোচনা করার চেষ্টা করব। আশা করি আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
ছবি কালার করার অ্যাপস
এক সময় ক্যামেরায় তোলা ছবিকে শুধুমাত্র কম্পিউটারের মাধ্যমে ফটো এডিট করা সম্ভব হতো। ছবি এডিট করে আয় করা যদিও এখনো সম্ভব, কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে এখন আপনি আপনার পছন্দের ছবিটি ঘরে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে তুলে সেই ছবিকে একইসাথে খুব সহজেই মোহনীয় ও আকর্ষণীয় করে এডিট করতে পারবেন।
আপনার তোলা ছবিকে আকর্ষনীয় করে তুলতে আপনাকে ছবি কালার করার অ্যাপস বা ছবি কালার করার সফটওয়্যার সংগ্রহ করতে হবে।
এমন অনেক মোবাইল ফটো এডিটর অ্যাপস রয়েছে যেসব সফটওয়ারে ফটো এডিট করলে জীবন্ত ছবি মনে হবে। তেমনি কিছু জনপ্রিয় ছবি এডিটিং সফটওয়্যার নিয়েই আমি আজ আলোচনা করব। চলুন দেখি, ছবি কালার করার অ্যাপস কোনগুলো।
Snapseed
মোবাইল দিয়ে ছবি এডিট করার জন্য অনেক ভালো একটি অ্যাপস হলো Snapseed. আপনি এখানে কোন ছবি এডিট করার জন্য অনেক ভালো ভালো অপশন পেয়ে যাবেন।
যেকোনো ছবিকে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে Snapseed এর রয়েছে ২৯ টির বেশি ফিল্টার। যা ছবির ছবির মাধুর্যতা বাড়িয়ে দেয় অনেক। মোবাইলে ছবি এডিট করার সেরা এই সফটওয়্যার অনেক উইজার ফ্রেন্ডলি হবার কারণে যেকোনো বয়সের মানুষ খুব সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।
সব থেকে মজার ব্যাপার হল আপনি এই অ্যাপ্লিকেশন টির সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। জাতির স্মার্টফোন আছে তারও ব্যবহার করতে পারবে না আবার যাদের পিছে বা ল্যাপটপ আছে তারাও ব্যবহার করতে পারবেন। এইজন্য আপনাকে গুগল প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে হবে।
Snapseed এ রয়েছে ব্রাশ, ভিগমিটি, গ্ল্যামার গ্লো ক্রপিং, ফ্লিপিং এর মতো আকর্ষণীয় টুলস, যা ব্যবহারে আপনি খুব সুন্দরভাবে ছবিকে নতুনত্ব প্রদান করতে পারবেন,ছবি হয়ে উঠবে আগের তুলনায় অনেক বেশি জীবন্ত।
অনেকে আবার প্রশ্ন করতে পারেন ভাই আমিতো এডিটিং বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য জানিনা। তাহলে কি আমি এই অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে এডিটিং করতে পারবো না। মূলত Snapseed অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে ফটো এডিটিং করা একদম সহজ। যেকোনো বয়সের মানুষ এই কাজটি করতে পারবে। তবে আপনি যদি ফটো এডিটিং এর নতুন হয়ে থাকেন। তাহলে অবশ্যই ইউটিউব থেকে একটি ভিডিও দেখে নিতে পারেন।
Canva apps
ছবি কালার করার অ্যাপস এর মধ্যে অ্যাপ হলো canva। এই অ্যাপস হলো ফ্রি ছবি ও ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি গ্রাফিক্স ডিজাইনের জন্য অনেক ভালো। যারা স্মার্টফোন দিয়ে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে তাদের ক্যানভা অ্যাপ অনেক বেশি জনপ্রিয়। এখানে আপনি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ভিডিও, ফটো কোলাজ এর মতো বিভিন্ন ধরণের এডিটিং করতে পারবেন।
এই মোবাইল অ্যাপস আপনার ছবি এডিটি করার জন্য অনেক টেমপ্লেট এর অপশন পেয়ে যাবেন। ছবি এডিটিং ফিচার গুলো অনেক সহজেই ছবি ক্রপ, ফ্লিপ এবং এডজাস্ট করে থাকে। উক্ত গ্রাফিক্স ডিজাইনের টুকিটাকি কাজ করার জন্য এই সফটওয়্যার সাধারণের জন্য তৈরি করা হয়োছে। তাই আপনি এখানে প্রফেশনাল ছবি এডিটিং করার মতো ফিচার পাবেন না।
PhotoDirector
বর্তমান সময়ে ছবি কালার করার সবথেকে জনপ্রিয় অ্যাপ হল ফটো দিরেক্টর। ছবি এডিটিং করার জন্য PhotoDirector অ্যাপটি অনেক উন্নত ও জনপ্রিয় টুলস। এই অ্যাপের মাধ্যমে ইজার ফ্রেন্ডলি অ্যাপ এ আপনি শাটারস্টক ও আইস্টক দ্বারা সংরক্ষিত বিল্ট ইন রয়্যালটি ফ্রি স্টক লাইব্রেরি পাবেন।
ধরুন আপনার কোন প্রকার ফটোগ্রাফি অভিজ্ঞতা নাই। সেক্ষেত্রেও কোন সমস্যা নেই। কারণ আপনি এই ছবি এডিটিং টুলস গুলো ব্যবহার করে, ছবি এডিট করে নিতে পারবনে। উক্ত সফটওয়্যার এর টুল গুলো অনেক দ্রুত আপনার ছবি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। স্যার আপনি এ সম্পর্কে যদি আরো ভালোভাবে জানতে চান তাহলে ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিতে পারেন।
Picsart
বর্তমান সময়ে ফটো এডিটিং অ্যাপ গুলোর মধ্যে খুবই জনপ্রিয় Picsart। কিন্তু সকল টুলস ও অপশন গুলো ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন না সকল প্রিমিয়াম অপশনগুলো ব্যবহার করতে Picsart এর প্রিমিয়াম মেম্বার হতে হবে কিছু টাকা দিয়ে।
Picsart এর ফ্রি ভার্শন ব্যবহার করে ছবিতে বিভিন্ন ধরনের ইফেক্ট এড করার পাশাপাশি ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড চেঞ্জ করতে পারবেন। এছাড়াও অন্য সকল Photo Editor এর মতো এখানেও ছবি ইডিট করার সকল টুলস পেয়ে যাবেন।
এজন্য আপনি যদি এই অ্যাপ্লিকেশনটি দিয়ে ফটো এডিটিং করতে চান। তাহলে আপনাকে প্রথমে এই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে হবে। অ্যাপটি ইনস্টল করার জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিন।
তবে Picsart দিয়ে ছবি ইডিট করলে আপনার ছবির কোয়ালিটি কিছুটা কমে যাবে, যার ফলে ছবি দেখতে নিম্নমানের মনে হতে পারে। এই অ্যাপসটিও গুগল প্লে স্টোর থেকে বিনামূল্যে ইন্সটল করতে পারবেন। একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
পরিশেষে কিছু কথা
এই ছিল আজকে ছবি কালার করার অ্যাপস সম্পর্কে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আশা করি যারা ছবি কালার করতে চাচ্ছেন। উপরোক্ত অ্যাপ গুলো ইন্সটল করে খুব সহজেই ছবিকে জীবন্ত ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। ছবি কালার করার অ্যাপস ও ছবি কালার করার সফটওয়্যার সম্পর্কে কোন মন্তব্য বা প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।
.jpg)