প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ- যারা বেকার অবস্থায় থেকে নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাচ্ছেন, তাদের আমাদের পক্ষ থেকে অনেক অভিনন্দন। একজন শিক্ষিত তরুণ কখনো বেকার অবস্থায় বসে থাকবে না। আপনিও নিশ্চয়ই নতুন একজন উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন। নতুন উদ্যোক্তা হিসাবে আপনার পুঁজি হয়তো স্বল্প পরিমাণ। কিন্তু বর্তমানে আপনি অল্প পুঁজি দিয়ে কোন ব্যবসা শুরু করতে পারবেন না।
নতুন যে সকল উদ্যোক্তাদের স্বল্প পরিমাণ পুঁজি থাকে,তারা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে আপনাকে প্রচুর টাকা সুদ প্রদান করতে হবে। নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে এত টাকা শোধ পরিশোধ করা আপনার পক্ষে একটু কষ্টকর হবে।
তাই নতুন সকল ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার নতুন একটি প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পটির নাম প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা। যাকে আমরা প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ বলে থাকি। চলুন প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা ও প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে লোন নিতে চান, তাহলে আপনাকে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার জন্য আপনার আলাদা কিছু যোগ্যতা লাগবে। প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। শিশু ঋণ, কিশোর ঋণ ও তরুণ্য ঋণ। তিন প্রজন্মের বাংলাদেশে অবস্থানকারী একজন মানুষ মুদ্রা লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা লোনে আপনাকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ দেওয়া হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংকের সুদের হারের চেয়ে, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় সুদের হার অনেক কম। এছাড়াও আপনি যদি এই লোন নিতে চান, তাহলে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা পেয়ে যাবেন।
আপনার জন্য আরো লেখাঃ
প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ কত প্রকার
প্রধানমন্ত্রীর লোন বাংলাদেশে তিন ভাগের ভাগ করা হয়েছে। শিশু ঋণ, কিশোর ঋণ ও তরুণ ঋণ। চলুন এগুলো সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নেই।
শিশু ঋণ: একজন শিশু যদি কোন ব্যবসা করতে চায়, তাহলে বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা লোন দিতে পারবে। কিন্তু আপনাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যেই এই লোন পরিশোধ করতে হবে। সুদের হার হবে ১০%।
কিশোর ঋণ: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় একজন কিশোর চাইলে খুব সহজেই ঋণ নিতে পারবে। শিশু ঋণের চেয়ে একজন কিশোর বেশি টাকা ঋণ পাবে। একজন কিশোর যদি উদ্যোক্তা হতে চায়, তাহলে সে ৫০ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবে।
তরুণ ঋণ: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় সব থেকে বেশি টাকা ঋণ পাবে একজন তরুণ। একজন তরুণ সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে পারবে। কিন্তু সেই তরুণকে অবশ্যই একজন ব্যবসায়ী হতে হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার লোনের টাকা নির্ধারণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ সুবিধা
আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ গ্রহণ করেন, তাহলে অন্যান্য ব্যাংকের চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পাবেন। প্রথমে আপনি সর্বোচ্চ কম সুদের হার পাবেন। অর্থাৎ অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনায় সুদের হার অনেক কম।
কৃষক থেকে শুরু করে একজন গাড়ি চালক প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ এর জন্য আবেদন করতে পারবে। সর্বনিম্ন ৫০০০০ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ঋণ নিতে পারবেন। লোন পরিশোধের মেয়াদকাল থাকবে তিন থেকে পাঁচ বছর।
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা আবেদন করার সময় কোন ফ্রি প্রদান করতে হবে না। একজন নতুন উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে।
আপনি আরো পড়তে পারেনঃ
প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ আবেদন পদ্ধতি
একজন যোগ্য প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা অনলাইনে আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও চাইলে আপনি সরাসরি হেল্পলাইন নাম্বারে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। হেল্পলাইন নাম্বার: ১৮০০১৮০১১১১
পরিশেষে কিছু কথা
আমাদের দেশের বেকার অবস্থা দূর করার জন্য প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা লোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে তরুণ পর্যন্ত এই লোনের জন্য আবেদন করতে পারবে। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই একজন যোগ্য প্রার্থী হতে হবে। আপনার মধ্যে যদি প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ নেওয়ার যোগ্যতা না থাকে, তাহলে এই লোন আপনার জন্য না।
প্রধানমন্ত্রী লোন বাংলাদেশ নিয়ে আজকের পর্ব এখানেইষ শেষ করছি। এরকম আরো লোন সম্পর্কের নতুন নতুন আপডেট পেতে, আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করবেন। আমরা সব সময় আপনাদের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করি।
.png)