শীতকালে সিলেটের দর্শনীয় স্থান: প্রাকৃতিক অপরূপে ভরপুর সিলেট শহর। বাংলাদেশের বেশিরভাগ নান্দনিক স্থাপত্য সিলেট বিভাগে অবস্থিত। এছাড়াও আমাদের দেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের যে সকল খনিজ সম্পদ রয়েছে,তার বেশিরভাগ সিলেট শহরে অবস্থিত রয়েছে।
এছাড়াও সিলেট শহরে রয়েছে অনেক ভাষাবাসীর জনগোষ্ঠী। সিলেট শহরে যে সকল আদিবাসীরা বসবাস করে তাদের প্রধান পেশা হলো কৃষি। এছাড়াও তারা চা বাগানে বেশি কাজ করে থাকে। সিলেটের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে জাফলং, পাহাড় পর্বত, হযরত শাহজালাল মাজার, তামাবিল ইত্যাদি।
শীতকালে সিলেটের দর্শনীয় স্থান
জাফলং: সিলেটের দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে জাফলং অন্যতম। কারণ যে সকল মানুষ সিলেট ভ্রমন করতে যায় তাদের প্রধান আকর্ষণ থাকে জাফলং। এছাড়াও জাফলংকে প্রাকৃতিক কন্যা বলে আখ্যায়িত দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলার আকর্ষণীয় স্থানগুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থায় রয়েছে জাফলং। সিলেট শহর থেকে মাত্র ৬২ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে জাফলং অবস্থিত। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং নদী অবস্থিত। সিলেট শহর থেকে আপনি বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজিতে জাফলং যেতে পারবেন। জাফলং যাওয়ার জন্য আপনার সর্বোচ্চ তিন ঘন্টা সময় লাগতে পারে।
হজরত শাহপারান (রঃ) মাজার: সিলেট শহর থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার পূর্বে হজরত শাহপারান (রঃ) মাজার অবস্থিত। সিলেট শহরের পুরাতন স্থাপত্যের মধ্যে হজরত শাহপারান (রঃ) মাজার অন্যতম। আপনি যদি ঢাকা থাকে শাহপরান মাজারে ভ্রমণ করতে চান,তাহলে আপনাকে সরাসরি গাবতলী থেকে বাসে উঠতে হবে।
হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার: সিলেট রেলস্টেশনের খুব কাছাকাছি হযরত শাহজালাল (রঃ) মাজার অবস্থিত। আপনি যদি সিলেট শহর থেকে হযরত শাহজালাল মাজারে যেতে চান, তাহলে অটোরিকশায় মাত্র ২০ টাকা ভাড়া নেবে।
বিছনাকান্দি: বিছানাকান্দি মূলত পাথর দ্বারা আবৃত একটি জায়গা। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলায় বিছানাকান্দি স্থাপত্য অবস্থিত। বিছানাকান্দি স্থাপত্য আপনি যদি খুব কাছ থেকে দেখেন,তাহলে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দেখতে পারবেন। বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত ঘেঁষে তৈরি হয়েছে।
লাক্কাতুরা চা বাগান: সিলেটে বিখ্যাত যে সকল স্থাপনা রয়েছে তার মধ্যে চা বাগান অন্যতম। সিলেট শহর বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন করে অনেক বেশি সুনাম অর্জন করেছে। সিলেট শহরে যে সকল চা বাগান রয়েছে তার মধ্যে লাক্কাতুরা চা বাগান অন্যতম। লাক্কাতুরা চা বাগানে অসংখ্য আদিবাসী কাজ করে। সিলেটের আদিবাসীদের প্রধান জীবিকা নির্বাহ করে এই চা বাগানের উপর।
তামাবিল: বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ বিল হলো তামাবিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সেরা তামাবিল সিলেট শহরে অবস্থিত। তামাবিলকে আরো সুন্দর করে তুলেছে সবুজ অরণ্যে থাকা পাহাড়।
হাকালুকি হাওর: হাওর দেখতে কেমন পছন্দ করে। আমরা সবাই হাকালুকি হাওরের কথা শুনেছি। এছাড়াও বিভিন্ন নাটক সিনেমায় হাকালুকি হাওয়ার সম্পর্কে অনেক ছবি প্রদর্শন করা হয়। আবার অনেক বইয়ে হাকালুকি হওয়ার সম্পর্কে অনুচ্ছেদ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের বিখ্যাত হাকালুকি হাওর সিলেট জেলায় অবস্থিত। সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ঘিলাছড়া ইউনিয়ন পরিষদে হাকালুকি হাওর অবস্থিত।
জিতু মিয়ার বাড়ী: জিতু মিয়ার বাড়ি সিলেট শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। সিলেট শহরে যে সকল বিখ্যাত বাড়ি রয়েছে তার মধ্যে জিতু মিয়ার বাড়ি অন্যতম। কারণ জিতু মিয়ার বাড়ি মূলত চুন সুরকি দিয়ে নির্মিত। প্রাচীনকালে মুসলিম স্থাপত্যের মধ্যে অন্যতম একটি বাড়ি।
মনিপুরী রাজবাড়ি: সিলেটের দর্শনীয় স্থান গুলো মধ্যে মনিপুরী রাজবাড়ি অন্যতম। সিলেট শহরে যে সকল আদিবাসী রয়েছে তাদের মধ্যে মনিপুরী অন্যতম। প্রাচীন থেকে সিলেট নগরীতে মনিপুরী আদিবাসীদের বসবাস ছিল। বর্তমানে সিলেটে যে সকল আদিবাসী বসবাস করে তাদের বেশিরভাগ মনিপুরী। সিলেট শহরের মির্জা জঙ্গলে বিখ্যাত মনিপুরী রাজবাড়ি অবস্থিত।
পরিশেষে
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা রয়েছে সিলেট শহর। সিলেটের দর্শনীয় স্থান গুলো দেখতে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে। আবার বিদেশ থেকেও অনেক মানুষ সিলেট দেশ দেখতে আসে। আপনার যদি অনেক ইচ্ছা থাকে সিলেট ভ্রমণ করার, তাহলে উপরের জায়গা গুলো দেখে আসতে পারেন।
