রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান: বাংলাদেশের প্রাচীনতম একটি শহর রাজশাহী। শত শত বছর ধরে রাজশাহীতে নানান রকমের স্থাপত্য তৈরি হয়েছে। যে স্থাপত্যগুলো রাজশাহী শহরকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আমরা সবাই জানি, রাজশাহী আমের জন্য খুবই বিখ্যাত। এছাড়া রাজশাহী শহর তাঁত শিল্প দিয়ে অনেক পরিচিত লাভ করেছে।
এছাড়াও রাজশাহীতে এমন কিছু স্থাপত্য রয়েছে, যেগুলো দেখতে প্রতিদিন প্রায় অনেক পর্যটন ভিড় করে। কারণ রাজশাহীতে অবস্থিত এই সকল স্থাপত্য শত শত বছরের পুরনো। রাজশাহীর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে যমুনা সেতু, সাফারি পার্ক, জিয়া পার্ক, রাজশাহী বাঘা মসজিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।
উপরের এই স্থাপত্যগুলো রাজশাহী বিভাগকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। আজকে আমরা রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে আপনাদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। রাজশাহী বিভাগ মূলত নয়টি জেলার সমন্বয়ে গঠিত। আসুন জেনে নেই, রাজশাহীতে যে সকল স্থাপত্যগুলো মানুষের নজর কেড়েছে।
যমুনা সেতু: রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সবথেকে দর্শনীয় স্থান হল যমুনা সেতু। বর্তমানে যমুনা সেতুর নাম বঙ্গবন্ধু সেতু। সিরাজগঞ্জ জেলায় অবস্থিত যমুনা সেতু দেখতে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে। বাংলাদেশের সব থেকে দীর্ঘতম সেতু হলো যমুনা সেতু। দিনের আলোর চেয়ে রাতের আঁধারে যমুনা সেতু দেখতে আরো সুন্দর দেখায়। এ কারণে সকল পর্যটক রাতের আঁধারে যমুনা সেতু দেখতে বেশি ভালোবাসে। আপনি যদি রাজশাহীতে ভ্রমণ করতে চান,তাহলে অবশ্যই যমুনা সেতুতে দর্শন করতে হবে।
পদ্মার পাড়: যারা রাজশাহী শহরে অবস্থান করছেন,তাদের জন্য পদ্মার পাড় দেখা খুব একটি কঠিন বিষয় না। আপনি জিরো পয়েন্ট থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে পদ্মারপাড় দেখতে পাবেন। এজন্য আপনাকে অটো রিক্সা করে জিরো পয়েন্ট থেকে পদ্মার পাড়ে যেতে হবে। বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদীর মধ্যে পদ্মা নদী অন্যতম। এছাড়াও পদ্মা নদীর পানি দেখতে অনেক মানুষ টাকা খরচ করে,পদ্মা নদীতে ভ্রমণ করতে যায়। আপনি যদি রাজশাহী শহরের মধ্যে বসবাস করেন,তাহলে আপনার জন্য পদ্মার পাড় দেখতে বেশি টাকা খরচ করতে হবে না।
পুঠিয়া শিব মন্দির: হিন্দু সম্প্রদায়নের জন্য রাজশাহীতে অবস্থিত পুঠিয়া শিবমন্দির বিখ্যাত একটি স্থাপত্য। রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায় এই শিব মন্দিরটি অবস্থিত। রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে পুঠিয়া শিব মন্দির অবস্থিত রয়েছে। রাজশাহী শহর থেকে আপনি অটোরিকশা অথবা বাসে পুঠিয়া উপজেলা যেতে পারেন।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: বাংলাদেশের প্রাচীনতম বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত। আপনি রাজশাহীর শহরের জিরো পয়েন্ট থেকে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে যেতে পারবেন। বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে বিখ্যাত বিখ্যাত স্থাপত্য সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর অনেক বেশি প্রয়োজনীয়।
বাঘা মসজিদ: রাজশাহীর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে বাঘা মসজিদ অন্যতম। প্রাচীনকালে ইট দ্বারা তৈরি হয়েছিল বাঘা মসজিদ। রাজশাহী শহর থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে বাঘা মসজিদ অবস্থিত। বাঘা মসজিদে যাওয়ার জন্য আপনাকে শিরইল বাস স্ট্যান্ড থেকে গাড়িতে উঠতে হবে।
রাজশাহী কলেজ: রাজশাহী শহরে অবস্থিত প্রাচীনতম রাজশাহী কলেজ। রাজশাহী কলেজ বাংলাদেশের অন্যতম একটি কলেজ। রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করার ইচ্ছা সকল শিক্ষার্থী রয়েছে। কারণ রাজশাহী কলেজ অনেক প্রাচীনতম একটি কলেজ। এছাড়াও রাজশাহী শহরের কাছাকাছি বলে সকল শিক্ষার্থীরা রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করতে চায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদিও বাংলাদেশের অক্সফোর্ড খ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী বিভাগের মানুষ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বলে আখ্যায়িত করেছে। বাংলাদেশের যে সকল বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে,তাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আপনি রাজশাহী শহর থেকে অটো রিক্সায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় যেতে পারবেন।
জিয়া পার্ক: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্মরণে জিয়া পার্ক উদ্বোধন করা হয়। রাজশাহী শহরে জিয়া পার্ক নান্দনিক একটি স্থাপত্য। নবাগত সকল শিশুদের জন্য জিয়া পার্ক উন্মুক্ত করা হয়েছে। জিয়া পার্কের মাধ্যমে নবাগত সকল শিশু ও কিশোর ভালো কিছু গুন অর্জন করতে পারবেন।
সাফিনা পার্ক: রাজশাহী শহরের নান্দনিক একটি পার্ক হল সাফিনা পার্ক। রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার মোট ৪০ বিঘা জমির উপরে সাফিনা পার্ক তৈরি করা হয়েছে। সাফিনা পার্কে দেখার মত এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যেগুলো দেখলে আপনার মন পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। বিশেষ করে সাফিনা পার্কের রাস্তার দুই পাশে সবুজ ফসল জমি রয়েছে। যেগুলো সকল পর্যটকের মন কেড়ে নিয়েছে।
রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার: বই পড়লে মানুষের মনের পরিধি বেড়ে যায়। এই কারণে রাজশাহী শহরে সাধারণ গ্রন্থাগার স্থাপন করা হয়েছে। রাজশাহী পাবলিক গ্রন্থাগারে সবাই বিনামূল্যে বই পড়তে পারবে। রাজশাহী ব্যস্ততম শহরের মধ্যে রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার অল্প কিছু সংখ্যক লোক বই পড়তে আসে। বিশেষ করে রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সকল শিক্ষার্থীদের পছন্দ একটি গ্রন্থাগার।
পুঠিয়া রাজবাড়ি: রাজশাহী বিভাগের মধ্যে পুঠিয়া উপজেলার রাজবাড়ী অনেক বেশি বিখ্যাত। কারণ পুঠিয়া রাজবাড়ীতে রয়েছে এমন কিছু স্থাপত্য রয়েছে, যে স্থাপত্যগুলো মানুষের নজর কেড়ে নিয়েছে।
উপসংহার
বাংলাদেশের বিভাগীয় শহর গুলোর মধ্যে রাজশাহী বিভাগ অন্যতম। বাংলাদেশের বেশিরভাগ দর্শনীয় স্থান রাজশাহী শহর অবস্থিত। আজকে আমরা আপনাদের সামনে রাজশাহীর দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে আলোচনা করলাম। উপরের দর্শনীয় স্থানগুলো ছাড়াও রাজশাহী শহরে আরো বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
