শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ২০২৩ঃ বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের শিশুদের ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হবার প্রবণতা বেশি থাকে। তাই আমাদের আগে থেকেই সচেতন থাকতে হবে।
এজন্য আপনাদের সামনে আজকে আমরা শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করবো। ভাই আপনি যদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তাহলে আজকের আর্টিকেল শুধুমাত্র আপনার জন্য। চলুন আমাদের মূল আলোচনা শুরু করি।
ডেঙ্গু রোগ কি?
ডেঙ্গু জ্বর একটি মশাবাহিত ভাইরাল সংক্রমণ। এডিস মশার কামড়ে মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এই রোগে তখনই কেউ আক্রান্ত হন, যখন মশা সংক্রমিত কোনো ব্যক্তিকে কামড়ে তারপর ভাইরাস বহন করার সময় একজন অ-সংক্রমিত ব্যক্তিকে কামড় দেয়।
শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
এদিকে দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। রোববার (৯ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটিই এ বছর একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই) সর্বোচ্চ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এ নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৭৩ জনের মৃত্যু হলো। ভবিষ্যতে রোগে আক্রান্ত ও মারা যাওয়ার রোগের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তাই আমাদের ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে হবে।
শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সমূহ
একজন শিশুকে তখনই ডেঙ্গু রোগী হিসেবে বিবেচিত করতে হয়। যখন তার মধ্যে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ দেখা যাবে। শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ সমূহ কি কি তা দেখে নেওয়া যাক।
- ডেঙ্গু রোগের প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেয়ার পর আবারও জ্বর আসতে পারে।
- ডেঙ্গুর রোগের অন্যতম আরেকটি লক্ষণ শরীরে ব্যথা। সঙ্গে মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা হতে পারে। সঙ্গে চামড়ায় লালচে দাগ বা র্যাশ থাকতে পারে।
- এছাড়াও শরীর ঠান্ডা হচ্ছে মনে হতে পারে। ক্ষুধা কমে যাওয়া, শরীর ম্যাজম্যাজ করার লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
- সিভিয়ার ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে তীব্র পেট ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, রক্তবমি, মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ, ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ, শ্বাসকার্য কঠিন বা দ্রুত হওয়া, শরীর ঠান্ডা অনুভব বা ঘাম হওয়া, দ্রুত নাড়ি স্পন্দন এবং ঘুম ঘুম ভাব, চেতনা হারানো।
- ডেঙ্গুর শক সিনড্রোম থেকে মানবদেহে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্স রেট অনেকটা বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ খুব কমে যায়। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস খুব দ্রুত চলে। রোগী অস্থির হয়ে ওঠেন। তখন সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে ভর্তি করানো উচিত।
উপরোক্ত লক্ষণ সমূহ আপনার মধ্যে যদি দেখা দেয়। তাহলে দেরি না করে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ডেঙ্গু যদি প্রকোপ আকার ধারণ করে। তাহলে আপনার অনেক ক্ষতি হতে পারে।
ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা
যখন আপনার মধ্যে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ দেখা দিবে, সাথে সাথে এ রোগের প্রতিকার ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। ডেঙ্গু রোগ হলে কি কি প্রতিকার ও চিকিৎসা গ্রহণ করবেন না তা জেনে নিতে হবে।
- ডেঙ্গু হলে ওষুধ হিসেবে শুধু প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। অনেকে না জেনে শরীরের বিভিন্ন অংশের তীব্র ব্যথা কমানোর জন্য ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকেন। এক্ষেত্রে বিপদ ঘটতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা। কারণ, ব্যথানাশক ওষুধ শরীরে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে, যা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।
- ডেঙ্গু হলে চিকিৎসকরা বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যেমন- ভাতের মাড়, স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ, ফলের রস, লেবুর পানি ইত্যাদি। তরল খাবার ৯০ শতাংশ কমায় ডেঙ্গুর তীব্রতা। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার ডাল, ডিম, মুরগির মাংস, ছোট মাছের ঝোল বেশি করে রাখতে হবে খাদ্যতালিকায়।
- ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট কমে যায়। তাই প্লাটিলেট বাড়ে এমন খাবার খেতে হবে। যেমন- সাইট্রাস ফল, কাঠবাদাম, দই, সূর্যমুখী বীজ, গ্রিন টি, ক্যাপসিকাম, ব্রোকলি, পালংশাক, আদা, রসুন ও হলুদ।
- পেয়ারার শরবত পান করা যেতে পারে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই পানীয়টি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ডেঙ্গু সংক্রমণ উপশম করবে।
- রক্তের প্লাটিলেট বাড়াতে নিম পাতার রস ভালো কাজ করে। এটি শ্বেত রক্তকনিকার সংখ্যাও বৃদ্ধি করে। নিম পাতার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর গুণও আছে।
শেষ কথা
এই ছিল আজকে শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আশা করি, আজকের আলোচনা থেকে আপনি জানতে পেরেছেন শিশুর ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি। এছাড়াও কোন ব্যক্তির মাঝে যদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ দেখা যায়। তাহলে পরবর্তী প্রতিকার ও কি চিকিৎসা নিতে হবে তা বর্ণনা করার চেষ্টা করেছি। তাই আজকের আর্টিকেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য অবশ্যই আজকের আর্টিকেল শেয়ার করতে ভুলবেন না।
.jpg)