সিএমসি হাসপাতাল খরচ
সিএমসি হাসপাতাল খরচ: অল্প খরচে ভালো মানের চিকিৎসা পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ভারতবর্ষের সিএমসি হাসপাতালে যেতে হবে। বর্তমান সময়ে ভারতবর্ষে ভেলোর সিএমসি হাসপাতাল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা চিকিৎসা প্রদান করছে। সিএমসি হাসপাতাল খ্রিস্টান মিশনারি পরিচালিত একটি হাসপাতাল, এই হাসপাতালে জটিল অপারেশন, কিডনি সমস্যা, ক্যান্সার, ডাক্তার দেখানো, টেস্ট করাসহ সব ধরনের চিকিৎসা সেবা কম খরচে পাওয়া যায়।
তবে যে সকল ব্যক্তি সিমসি হাসপাতালে নতুন অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন তাদের প্রাথমিক কিছু ধারণা থাকা দরকার। যেমন সিএমসি হাসপাতাল খরচ কেমন ও ভেলোর হোটেল ভাড়া এগুলো বিষয়ে আপনাকে আগে থেকে জানতে হবে।
আপনার যদি সিএমসি হাসপাতাল খরচ সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে, তাহলে কিন্তু পরবর্তীতে কোন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা ভেলোর এই হাসপাতালের খরচ সম্পর্কে আপনাদের একটু হলেও ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
সিএমসি হাসপাতাল খরচ
সাধারণত আমাদের দেশ থেকে যে সকল মানুষ ভারতবর্ষে সিএমসি হাসপাতালের চিকিৎসা করানোর জন্য যায় তাদের একটু কষ্ট করতে হয়। ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নেওয়া, রোগী দেখানোর জন্য সিরিয়াল, পরীক্ষা করা ও ধৈর্যধারণ করার মত মন মানসিকতা থাকতে হবে। তারপরে আপনি পেয়ে যাবেন আপনার কাঙ্খিত সেবা।
ধৈর্য্য থাকলে বাংলাদেশে বসে চিকিৎসা করানোর চেয়ে সিএমসি হাসপাতাল অনেক ভালো। আমাদের দেশের নামিদামি হাসপাতালে যে খরচ পড়বে, ভেলোর হাসপাতালে তার চেয়েও কম খরচে ট্রান্সপোর্ট, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার পুরোটা সেরে ফেলতে পারবেন। সঙ্গে পাওয়া যাবে বিশ্বমানের আধুনিক চিকিৎসা।
সিএমসি হাসপাতাল খরচ অনেকটা নির্ভর করে ডিপার্টমেন্টের উপর। অর্থাৎ অপারেশন করানোর জন্য আলাদা খরচ, কোন পরীক্ষা করানোর জন্য আলাদা খরচ হবে। সি এম সি হাসপাতালের ডাক্তার খরচ মোটামুটি আমাদের দেশের মতই।
আপনি যদি প্রাইভেট কোন ডাক্তারকে দেখাতে চান, তাহলে খরচ পড়বে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। আবার আপনি যদি ওয়ার্ডে কোন রোগে দেখাতে চান,সেক্ষেত্রে খরচ পড়বে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। আর চিকিৎসার খরচ নির্ভর করবে আপনি কোন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। অর্থাৎ আপনার রোগের টেস্টের উপর নির্ভর করবে খরচ কত টাকা হবে।
আপনি যদি ছোট ধরনের কোন রূপ নিয়ে যান সে ক্ষেত্রে টেস্ট অবশ্যই কম করতে হবে তাহলে খরচ একটু কম হবে। আবার যদি বড় ধরনের কোন রোগ নিয়ে যান সেক্ষেত্রে আপনাকে কিন্তু অবশ্যই অনেকগুলো টেস্ট করাতে হবে। আপনি যত বেশি টেস্ট করবেন খরচ তত বেশি হবে। কিন্তু আমাদের দেশের তুলনায় আপনি সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করলে অনেক খরচ কম পাবেন।
দেখা গেছে সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা খরচের চেয়ে আপনার যাওয়া আসার খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। অর্থাৎ আপনাকে পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে তারপর বাংলাদেশ থেকে কলকাতা যেতে হবে,কলকাতা থেকে চেন্নাই সর্বশেষ চেন্নাই থেকে ভেলোর হাসপাতালে। ভেলোর হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে আপনাকে মোটামুটি টাকা খরচ করতে হবে।
আরো পড়ুনঃএপোলো হাসপাতাল চেন্নাই ডাক্তার তালিকা
ভেলোর হোটেল ভাড়া
সিএমসি হাসপাতাল খরচ জানার পর, আপনার কিন্তু সিএমসি হাসপাতালের আশেপাশে হোটেল ভাড়া সম্পর্কে জানতে হবে। কারণ আপনি যেহেতু ভেলোর অধিবাসী নয় এ কারণে আপনাকে ভেলোর হোটেল ভাড়া সম্পর্কে জানতে হবে। ভেলোর শহরে থাকার জন্য অনেক লজ পেয়ে যাবেন। এখানে রুম এর চাহিদা যেমন বেশি তেমনি লজ আছে অনেক।
সিঙ্গেল ও ডাবল বেড এর রুম ১৫০-২০০ থেকে শুরু করে ১৫০০-২০০০ টাকার পর্যন্ত পাবেন। আপনি সিএমসি হাসপাতাল থেকে যত দুরত্ব বাড়াবেন,তত লজের রেট কমতে থাকবে। অর্থাৎ আপনি হাসপাতাল থেকে যদি দুই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে হোটেল ভাড়া করেন তাহলে হোটেল ভাড়া তুলনামূলকভাবে অনেক কম হবে। তবে অবশ্যই হাসপাতালের কাছাকাছি হোটেল ভাড়া করার চেষ্টা করবেন।
ভেলোর হাসপাতালে কিভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে ভেলোর এর দূরত্ব মোটামুটি ১৭১০ কিলোমিটার। ট্রেনে যেতে চাইলে আপনাকে কাটপাডি জংশনে নামতে হবে। হাওড়া থেকে কাটপাডি যাওয়ার অসংখ্য ট্রেন আছে। হাওড়া থেকে কাটপাডি যেতে সময় লাগবে ২৫ থেকে ২৯ ঘন্টার মতো। কাটপাডি থেকে ভেলোর এর দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার।
কাটবাটি থেকে আপনি বাসে বা ট্যাক্সি করে ভেলোর হাসপাতালে যেতে পারবেন। এখন যারা বাই এয়ার ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে যেতে চাইলে আপনাকে নামতে হবে চেন্নাই এয়ারপোর্টে। চেন্নাই থেকে ভেলোর যেতে গাড়িতে সময় লাগবে ২ ঘন্টার মতো।
সিএমসি হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়ম
সিএমসি হাসপাতাল খরচ ইতোমধ্যে আপনি জানতে পেরেছেন। এখন আপনি নিশ্চয়ই ভেলোর এই হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে চাচ্ছেন। তবে কিভাবে এপয়েন্টমেন্ট নিতে হয় তা আপনার হয়তো জানা নেই। বর্তমান সময় যেহেতু তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। সে ক্ষেত্রে সব থেকে ভালো হয় সিএমসি হাসপাতালের অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য আবেদন করা।
অত্যন্ত ভীড়ের জন্য যেকোনো ডিপার্টমেন্টের প্রাইভেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে, আপনার কমপক্ষে ১৫ দিন-৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এখন আপনার কিন্তু বাংলাদেশ বা কলকাতা থেকে ভেলোর হাসপাতালে গিয়ে ১৫ থেকে এক মাস থাকা সম্ভব নয়। এই কারণে আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে চাইলে,আপনাকে আগে জানতে হবে আপনার এই রোগের জন্য কোন ডিপার্টমেন্টে চিকিৎসা করাতে হবে।
তারপর সেই চিকিৎসার বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে আপনাকে অনলাইনে বেছে নিতে হবে। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হলে আপনাকে সিএমসি, ভেলোর এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে – http://clin.cmcvellore.ac.in/ webapt/। আপনি যদি অনলাইনে এপয়েন্টমেন্ট এর জন্য আবেদন করতে না পারেন,তাহলে অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার সহযোগিতা নিতে পারেন।
পরিশেষে কিছু কথা
এই ছিল আজকে সিএমসি হাসপাতাল খরচ ও হোটেল ভাড়া সম্পর্কে আমাদের সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনা। আশা করি যারা নতুন অবস্থায় সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন তাদের আজকের আর্টিকেল অনেক দরকার ছিল। সাধারণত যে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা করার আগে অবশ্যই তার খরচ ও এপয়েন্টমেন্ট সম্পর্কে জানা দরকার।
এছাড়াও বাংলাদেশ কিংবা ভারতবর্ষে সবথেকে কম খরচে আপনি ভেলোর সিএমসি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। থাকা-খাওয়া অন্যান্য খরচ সহ চিকিৎসা খরচ অনেক কম পড়বে। তবে সিএমসি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করার আগে,অবশ্যই আপনাকে অনলাইনে আপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সিএমসি হাসপাতাল খরচ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
.jpg)