উমরাহ করার নিয়ম
উমরাহ করার নিয়মঃ আসলামুআলাইকুম প্রিয় পাঠক। আশা করি আপনি অনেক ভাল আছেন। আবারো আপনাদের সামনে ইসলামিক একটি পোস্ট নিয়ে হাজির হলাম। প্রতি বছর আমাদের দেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সৌদি আরব উমরাহ পালন করতে যায় অসংখ্য মুমিন মুসলমান। কিন্তু ওমরা পালন করার কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে।
তবে নতুন যে সকল হজ যাত্রী উমরা করতে চায় তারা কিন্তু সঠিক নিয়ম কানুন জানেনা। এজন্য আপনাকে উমরাহ করার নিয়ম কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। আজকের আর্টিকেলে আমরা মূলত উমরাহ করার নিয়ম,উমরাহ করতে কতদিন লাগে,উমরাহ করার দোয়া,উমরাহ করার নিয়ম pdf ও মহিলাদের উমরাহ করার নিয়ম ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি,আজকের আর্টিকেল আপনি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
উমরাহ কি
উমরা আরবি একটি ইসলামি তীর্থযাত্রা। যেখানে গিয়ে মহান আল্লাহতালার ইবাদত করা যায়। বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা নগরীতে উমরা করতে হয়। উমরা বছরের যেকোন সময় করা যায়। আরবি ভাষায় উমরা শব্দের অর্থ হল জনবহুল স্থানে ভ্রমণ করা। ইসলামি পরিভাষায় উমরা অর্থ ইহরাম অবস্থায় কাবার চারপাশে তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যখানে সায়ি করাকে বোঝায়।
হজ্জের সাথে এদিক থেকে উমরার সাদৃশ্য রয়েছে। তবে হজ্জের গুরুত্ব উমরার চেয়ে বেশি। প্রত্যেক সক্ষম মুসলিমের জন্য জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ। উমরার ক্ষেত্রে এই বাধ্যবাধকতা নেই তবে এটি উৎসাহিত করা হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তি জীবনে সে যতবার চাইবে ততবার উমরাহ করতে পারবে।
উমরাহ করার নিয়ম
যারা প্রথম অবস্থায় সৌদি আরবে ওমরা পালন করতে যেতে চাচ্ছেন। তাদের কিন্তু অবশ্যই উমরাহ করার নিয়ম সম্পর্কে সঠিক জানতে হবে। কারণ ওমরা পালন করার সময় আপনাকে চারটি কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। এর মধ্যে দুটি কাজ ফরজ ও দুটি কাজ ওয়াজিব। এই কারণে আপনাকে কোন একটি আমল থেকে বিরত থাকা যাবে না। আপনাকে সম্পূর্ণ ইসলামিক নিয়ম নীতি মেনে উমরা হজ পালন করতে হবে। চলুন উমরাহ করার নিয়ম কারণ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জেনে নেই।
উমরাহ পালনে প্রধানত চারটি কাজ। দুইটি কাজ ফরজ— (১) ইহরাম পরিধান করা। (২) পবিত্র কাবাগৃহ তাওয়াফ করা। আর দুইটি কাজ ওয়াজিব— (১) সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী (সবুজ বাতি) স্থানে সাতবার সাঈ করা। (১) মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা।
ইহরাম পরিধান করা
ইহরাম হল উমরার জন্য নির্ধারিত একটি অবস্থা। মিকাত নামক নির্ধারিত স্থানগুলো অতিক্রম করার পূর্বেই ইহরাম অবস্থা ধারণ করতে হয়। ইহরামের নির্দিষ্ট পোশাক ও কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে। ইহরাম অবস্থায় কোনো পুরুষ সেলাইযুক্ত কাপড় পরিধান করতে পারবে না। এর বদলে দুই খানা সাদা সেলাইবিহীন কাপড় পড়তে হয়। এসময় সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে। মহিলারা সাধারণ পোশাক পড়তে পারে তবে এসময় মুখ খোলা রাখতে হয়।
তারপর ফরজ নামাজের ওয়াক্ত হলে ফরজ নামাজ আদায় করবে। ফরজ নামাজের ওয়াক্ত না হলে অজুর সুন্নত হিসেবে দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে। নামাজের পর কিবলামুখী হয়ে ইহরাম পরিধান করবে। ইচ্ছা করলে বাহনে (গাড়িতে) উঠে যাত্রার প্রাক্কালে ইহরাম করতে পারেন। তবে মিকাত থেকে মক্কার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার আগে ইহরাম করতে হবে। ইহরামের নিয়তে এই দোয়া পড়া যায়।
আরবি :
اللهم إني أريد العمرة فيسرها لي و تقبلها مني
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফা-ইয়াসসিরহা লি ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।
অর্থ : হে আল্লাহ, আমি ওমরাহর ইচ্ছা করছি; আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন।
এরপর বলবে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা ওমরতান/ওমরাহ (অর্থ হে আল্লাহ, ওমরাহকারী হিসেবে আপনার দরবারে হাজির)।
এরপর নবী (সা.) যেভাবে তালবিয়া পড়েছেন সেভাবে তালবিয়া পড়বে। সেই তালবিয়া হচ্ছে, ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। লাব্বাইকা লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক। ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক। লা শারিকা লাক।’
পুরুষরা উচ্চ স্বরে তালবিয়া পড়বে। ওমরাহর ক্ষেত্রে ইহরামের শুরু থেকে তাওয়াফ শুরু করার আগ পর্যন্ত তালবিয়া পড়ার বিধান আছে। তাওয়াফ শুরু করলে তালবিয়া পড়া ছেড়ে দেবে।
ইহরাম অবস্থায় চুল, দাড়ি, নখ এসব কাটা নিষেধ। কোনোপ্রকার সুগন্ধি ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও নিষেধজ্ঞা রয়েছে। ইহরাম অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার সময় মাথা মুন্ডন বা খুব ছোট করে চুল ছেটে ফেলতে হয় এবং এরপর থেকে চুল, দাড়ি, নখ কাটার অনুমতি রয়েছে। মহিলাদের মাথা মুন্ডন করতে হয় না। বরং চুলের কিছু অংশ কেটে ফেলতে হয়।
অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজের মধ্যে রয়েছে কোনো প্রাণী হত্যা, ঝগড়া বা লড়াই করা, যৌন সম্পর্ক স্থাপন ইত্যাদি। এছাড়া সাধারণ সময় নিষিদ্ধ কাজসমূহও এসময় নিষিদ্ধ থাকে। দৃষ্টি সংযত রাখা অন্যান্য সময়ের মত এসময়ও গুরুত্বপূর্ণ।
সুগন্ধি সাবান ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকায় সুগন্ধিহীন সাবান ব্যবহার করা হয়। সাধারণ জীবনের মত সকল প্রকার অহংকার বা খারাপ আচরণ ও চিন্তা এসময় মন থেকে দূরে রাখতে বলা হয়। দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার বাইরে এসে এসময় শুধু আল্লাহর স্মরণ করা হাজিদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
কাবাঘরের তাওয়াফ করা
উমরাহ দ্বিতীয় ফরজ কাজ হলো কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। তাওয়াফ একটি ইসলামি ধর্মীয় রীতি। উমরার সময় মুসলিমরা কাবার চারপাশে ঘড়ির কাটার বিপরীতদিকে সাতবার ঘোরে যা তাওয়াফ নামে পরিচিত। তাওয়াফ শুরুর পূর্বে হজরে আসওয়াদে চুমু দেয়া নিয়ম। তবে ভিড়ের কারণে এর কাছে যাওয়া সম্ভব না হলে হাত দিয়ে ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করতে হয়।
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, ইসতেলাম (স্পর্শ) বা হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোনায় দাঁড়িয়ে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত দিয়ে ইশারা করে পুরুষরা ইজতিবা ও রমলসহ আর নারীরা সাধারণভাবে তাওয়াফ শুরু করবে আর এ দোয়া পড়া-
بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر – اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و بصديقًا بِكِتَابِكَ وَرَفَعًا بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা ওয়া রাফাআন বিআহদিকা ওয়া ইত্তিবাআন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।’
তাওয়াফের সময় কাবা শরিফ ও হাজরে আসওয়াদকে বাম দিকে রেখে রোকনে শামি ও রোকনে ইরাকি অতিক্রম করে রোকনে ইয়ামেনিতে আসবে। এ স্থানে তালবিয়া, তাকবির তাসবিহ ইত্যাদি পড়বে।
অতঃপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং কুরআনে শেখানো এ দোয়া পড়বে-
رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্ নার।’
হাজরে আসওয়াদ পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে এক চক্কর সম্পন্ন হবে। এভাবে সাত চক্কর দেয়ার মাধ্যমে পুরো এক (ফরজ) তাওয়াফ সম্পন্ন হবে।
ইজতিবা ও রমল
ফরজ তাওয়াফের জন্য পুরুষরা ইজতিবা ও রমল করবে। এটি নারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। আর তাহলো-
ইজতিবা
পুরুষরা গায়ের চাদরটিকে মুঠিবদ্ধ করে বাম কাধের ওপর দিয়ে পিঠ ঘুরিয়ে ডান বগলের নিচ দিয়ে এনে বুকের ওপর থেকে বাম কাঁধের ওপর দিয়ে পেছনে ফেলা। এভাবে বাহাদুরি সুলভ আচরণ প্রকাশে গায়ের চাদর পরাই হলো ইজতেবা। আর এটা করা সুন্নাত।
রমল
ফরজ তাওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রমল করাও সুন্নাত। দুই হাত শরীর ও কাঁধ হেলিয়ে দুলিয়ে দ্রুত গতিতে প্রথম ৩ চক্কর সম্পন্ন করা। এভাবে তাওয়াফ করাকে রমল বলে। তাওয়াফে রমল ও ইজতিবা পুরুষের জন্য পালন করা সুন্নাত। এটা নারীদের জন্য নয়।
মাকামে ইবরাহিমে নামাজ
তাওয়াফ শেষে সম্ভব হলে মাকামে ইবরাহিমে কিংবা মাকামে ইবরাহিমের ওই দিকটায় ২ রাকাআত নামাজ আদায় করা। নারীদের নামাজের জন্য ওই দিকটায় নির্ধারিত স্থানও রয়েছে।
অতঃপর ঝমঝমের পানি পান
মাকামে ইবরাহিমে নামাজ আদায় করে ঝমঝমের পানি পান করে নেয়া। মাতআফের চর্তুদিকে ঝমঝমের পানির ঝার/ড্রাম রয়েছে। যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য ঝমঝমের গরম পানির ব্যবস্থাও রয়েছে।
সাফা-মারওয়ায় সাঈ করা
জমজমের পানি পান করে ধীরে ধীরে সাফা পাহাড়ে আরোহণ করবে। সাফা ও মারওয়া পাহাড় দুটি কাবা শরিফের পাশেই অবস্থিত। এরপর মাসআ (সাঈ করার স্থান) আসবে। যখন সাফা পাহাড়ের নিকটবর্তী হবে তখন পড়বে—‘ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআইরিল্লাহ।’
এই আয়াত শুধু সাঈর শুরুতে সাফার নিকটবর্তী হলে পড়বে। সাফা-মারওয়াতে প্রতিবার আয়াতটি পড়বে না। এরপর বলবে—
উচ্চারণ : নাবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহি। অর্থ : আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন আমরাও তা দিয়ে শুরু করছি।
অতঃপর সাফা পাহাড়ে উঠবে, যাতে কাবা শরিফ দেখতে পায়। কাবার দিকে ফিরে আলহামদু লিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলবে। কাবা নজরে এলে কাবাকে সামনে রেখে দুই হাত তুলে দোয়া করবে। নবী (সা.)-এর দোয়ার মধ্যে ছিল—
উচ্চারণ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহ, আনজাজা ওয়াদাহ, ওয়া নাসারা আবদাহ, ওয়া হাজামাল আহজাবা ওয়াহদা।
এই জিকিরটি তিনবার উচ্চারণ করবে এবং এর মধ্যে দোয়া করবে। একবার এই জিকির বলবে। এরপর দোয়া করবে। দ্বিতীয়বার জিকিরটি বলবে এবং এরপর দোয়া করবে। তৃতীয়বার জিকিরটি বলে মারওয়া পাহাড়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে যাবে। তৃতীয়বার আর দোয়া করবে না। যখন সবুজ কালার চিহ্নিত স্থানে পৌঁছবে তখন যত জোরে সম্ভব দৌড়াবে। কিন্তু কাউকে কষ্ট দেবে না। দ্বিতীয় সবুজ রং চিহ্নিত স্থান থেকে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবে। এভাবে মারওয়াতে পৌঁছবে। সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়বে—উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আ-আজজুল আকরাম।’
সবুজ চিহ্নিত স্থান অতিক্রম করে নারী-পুরুষ সবাই স্বাভাবিক গতিতে হাঁটবে। মারওয়ার ওপর উঠে কিবলামুখী হয়ে হাত তুলে দোয়া করবে। সাফা পাহাড়ের ওপর যা যা পড়েছে ও বলেছে এখানেও তা তা পড়বে ও বলবে। এরপর মারওয়া থেকে নেমে সাফার উদ্দেশে হেঁটে যাবে। স্বাভাবিকভাবে হাঁটার স্থানে হেঁটে পার হবে; আর দৌড়ানোর স্থানে দৌড়ে পার হবে। সাফাতে পৌঁছার পর আগে যা যা করেছে তা তা করবে। মারওয়ার ওপরও আগের মতো তা তা করবে। এভাবে সাত চক্কর শেষ করবে। সাফা থেকে মারওয়া গেলে এক চক্কর। মারওয়া থেকে সাফাতে এলে এক চক্কর। সাঈর মধ্যে যা খুশি জিকির, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত করতে পারবে। সাঈ শেষ হলে এ দোয়া পড়বে—উচ্চারণ : ‘রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আনতাস ছামিউল আলিম
মাথা মুণ্ডন করা
সাফা এবং মারওয়া পাহাড়দ্বয় সাঈ করার পর মাথা মুণ্ডন করা অথবা মাথার চুল ছেটে ফেলা। আর নারীরা চুলের আগার দিকে কিছু অংশ কাটার মাধ্যমে ইহরাম থেকে বের হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, যারা হজে ক্বিরান আদায় করবে তারা মাথা মুণ্ডন করবে না। আর যারা তামাত্তু হজ করবেন শুধু তারাই মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে হালাল হবে। আর ইফরাদ হজ আদায় কারীর জন্য তো ওমরা করার প্রয়োজন নেই।
উমরাহ করার দোয়া
উমরাহ করার নিয়ম জানার পর, এখন আপনাকে উমরা দোয়া গুলো মুখস্থ করতে হবে। আমরা উপরে দেখেছি ওমরা করার সময় বিভিন্ন রকমের দোয়া পড়তে হবে। আপনাকে ধারাবাহিকভাবে সেই দোয়াগুলো পড়তে হবে। এই কারণে দোয়া করলে যদি আপনার আগে থেকে মুখস্ত থাকে। তাহলে উমরাহ করতে অনেক সহজ হয়।
কাবা ঘর দেখে এ দোয়া পড়া-
اَللَّهُمَّ أَنْتَ السّلَامُ وَ مِنْكَ السَّلَامُ حَيِّنَا رَبَّنَا بِالسَّلَامِ اَللَّهُمَّ زِدْ هَذَا الْبَيْتَ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ تَكْرِيْماً وَ مَهَاَبَةً وَ زِدْ مَنْ شَرّفَهُ وَ كَرّمَهُ مِمَّنْ حَجَّهُ وَاعْتَمَرَهُ تَشْرِيْفاً وَ تَعْظِيْماً وَ بِرُّا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আংতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু হাইয়্যিনা রাব্বানা বিস্সালাম। আল্লাহুম্মা যিদ হাজাল বাইতা তাশরিফান ওয়া তা’জিমান ওয়া তাকরিমান ওয়া মুহাবাতান; ওয়া জিদ মান শার্রাফাহু ওয়া কার্রামাহু মিম্মান হাজ্জাহু ওয়া’তামারাহু তাশরিফান ওয়া তাকরিমান ওয়া তা’জিমান ওয়া বির্রা।
কাবা শরিফ তাওয়াফ করা (ফরজ)
কাবা শরিফ তাওয়াফের শুরুতে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন, ইসতেলাম (স্পর্শ) বা হাজরে আসওয়াদ বরাবর কোনায় দাঁড়িয়ে কাবার দিকে ফিরে দুই হাত দিয়ে ইশারা করে পুরুষরা ইজতিবা ও রমলসহ আর নারীরা সাধারণভাবে তাওয়াফ শুরু করবে আর এ দোয়া পড়া-
بِسْمِ اللهِ اَللهُ اَكْبَر – اَللَّهُمَّ اِيْمَنًا بِكَ و بصديقًا بِكِتَابِكَ وَرَفَعًا بِعَهْدِكَ وَ اِتِّبَعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার; আল্লাহুম্মা ইমানান বিকা ওয়া তাসদিকান বিকিতাবিকা ওয়া রাফাআন বিআহদিকা ওয়া ইত্তিবাআন লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।’
রোকনে ইয়ামেনি অতিক্রম করে এ দোয়া পড়া
এরপর (সম্ভব হলে) রোকনে ইয়ামেনি স্পর্শ করবে। সম্ভব না হলে দূর থেকে ইশারা করে হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হবে এবং কুরআনে শেখানো এ দোয়া পড়বে-
رَبَّنَا اَتِنَا فِى الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّ فِى الْاَخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ : রাব্বানা আতিনা ফিদদুনিয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়াক্বিনা আজাবান্ নার।’
সবুজ চিহ্নিত স্থানে এ দোয়া পড়া-
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ
উচ্চারণ : ‘রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম।’
মারওয়া পাহাড়ে আরোহন
সাফা থেকে গিয়ে মারওয়া পাহাড়ে ওঠা। সেখানে গিয়ে আবার সাফার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। সেখানে এ দোয়া পড়া-
اَللهُ اَكْبَر – اَللهُ اَكْبَر- اَللهُ اَكْبَر- وَ لِلَّهِ الْحَمْدُ – لَا اِلَهَ اِلَّا الله وَحْدَهُ صَدَقَ وَعْدَهُ وَ نَصَرَ عَبْدَهُ وَ هَزَمَ الأحْزَابَ وَحْدَهُ – لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ – وَ لَا نَعْبُدُ اِلَّا اِيَّاهُ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَفِرُوْنَ – رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَ اَنْتَ الْاَعَزُّ الْاَكْرَمُ – إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ ۖ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَن يَطَّوَّفَ بِهِمَا ۚ وَمَن تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়ালিল্লাহিল হামদু। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু সাদাক্বা ওয়াদাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু; লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু মুখলিসিনা লাহুদদ্বীন ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন। রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতাল আআযযুল আকরাম। ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিং শাআয়িরিল্লাহি ফামান হাজ্জাল বাইতা আয়ি’তামারা ফালা ঝুনাহা আলাইহি আঁইয়্যাতত্বাওয়াফা বিহিমা ওয়া মাং তাত্বাওওয়াআ খাইরান ফাইন্নাল্লাহা শাকেরুন আলিম।’
উপসংহার
এই ছিল আজকে আমাদের উমরাহ করার নিয়ম ও উমরাহ করার দোয়া সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আশা করি,কিভাবে উমরাহ হজ পালন করতে হবে তা আপনি বুঝতে পেরেছেন। আমাদের প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের দায়িত্ব ওমরা পালন করার আগে অবশ্যই উমরাহ করার নিয়ম জানতে হবে।
আপনার যদি উমরাহ করার সঠিক নিয়ম জানা থাকে। তাহলে আপনাকে সৌদি আরব গিয়ে কোন দুশ্চিন্তা করতে হবে না। আশা করবো মহান আল্লাহ তা’আলা আপনাকে উমরাহ হজ পালন করার তৌফিক দান করুক। উমরাহ করার নিয়ম পর্বটি সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে পারেন।
.png)