ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ
ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচঃ আমাদের দেশে প্রায় ১২ টি ক্যাডেট কলেজ রয়েছে। ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার মান ও পড়ালেখার সুবিধাগুলোর দিক চিন্তা করে অনেক অভিভাবকের ইচ্ছা করে,আমার সন্তানকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাবো। এছাড়াও যে সকল শিক্ষার্থীর ভাই ও বোনেদের স্বপ্ন রয়েছে ক্যাডেট কলেজের পড়াশোনা করার। তাদের ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে বিভিন্ন রকমের প্রশ্ন থাকে।
তেমনি কিছু প্রশ্ন হল ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ,ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবিধা,ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়ার সহজ উপায়,ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা ও ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বয়স ইত্যাদি। আপনারও নিশ্চয়ই উপরোক্ত প্রশ্নগুলো রয়েছে। আপনি যদি ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে চান, তাহলে আমাদের আজকের আর্টিকেল মনোযোগ সহকারে পড়বেন। কারণ আজকের আর্টিকেল আমরা ক্যাডেট কলেজের সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। তাই দেরি না করে চলুন আজকের আর্টিকেল শুরু করি।
ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ
আপনি হয়তো জানেন ক্যাডেট কলেজগুলো সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়। অর্থাৎ আমাদের দেশের সামরিক বাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় ক্যাডেট কলেজগুলো। ক্যাডেট কলেজের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে সামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা। এই কারণে যাদের স্বপ্ন আছে আমাদের দেশের সামরিক বাহিনীতে যোগদান করার। তারা কিন্তু ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে পারে।
তবে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হবার আগেই আমরা ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ সম্পর্কে জানতে চাই। অনেকে ভাবি ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করতে হাজার হাজার টাকা লাগে। এরকম অনেক ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে রয়েছে। আশা করি, আপনার এগুলো ভুল ধারণা সংশোধন করে দেওয়ার চেষ্টা করব।
ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ মূলত নির্ভর করে অভিভাবকদের আয়ের উৎসের ওপরভিত্তি করে। ক্যাডেট শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও থাকা-খাওয়ার খরচ নির্ধারণ করা হয় আয়ের উৎস উপর। সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিন্ম ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিন্ম ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ফি দিতে হয় ক্যাডেট কলেজে।
উদাহরণস্বরূপঃ শিক্ষার্থীর বাবা যদি রিক্সাওয়ালা হয়,তাহলে অনেক কম টাকা হবে যেমন ১৫০০ টাকা। আর যদি শিক্ষার্থীর বাবা সচিব হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। আবার শিল্পপতি হলে, ২৫ হাজার টাকা, এর বেশী কোন বেতন নির্ধারণ করা হয় না। তাই যারা ভাবছেন আমি তো নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান আমি কি ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করতে পারব। আপনার মন থেকে এরকম চিন্তা বাদ দিয়ে দিন। কারণ আপনার বাবার আয়ের ইচ্ছের উপর ভিত্তি করে মূলত পড়াশোনার খরচ দিতে হবে। আশা করি, বিষয়টা পরিষ্কার বুঝতে পেরেছেন।
►► আরো পড়ুনঃ সরকারি ডিগ্রি কলেজের তালিকা
►► আরো পড়ুনঃ রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ বেতন
ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবিধা
অনেকে যারা ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কে জানেন না, তারা বলবেন আমি কেন ক্যাডেট কলেজে পড়ব বা আমার সন্তানকে কেন ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাবো। আমি আপনাদের আগেই বলেছি ক্যাডেট কলেজ পরিচালিত হয় মূলত সামরিক বাহিনী দ্বারা। তাহলে বুঝতে পারছেন ক্যাডেট কলেজ কতটা সুশৃংখল ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ক্যাডেট কলেজের প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী অত্যন্ত শৃংখলা ও অধ্যবসায়ের মধ্যে ক্লাস কার্যক্রম, ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, খেলাধুলা, পিটি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে নিজেকে বড় করে তোলে। প্রায় প্রতিটি ক্যাডেট কলেজের ভেতরে শিক্ষার্থীদের জন্য আছে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা। সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে রাত ১০ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে ক্যাডেটরা।
আপনি যদি পড়াশোনাতে সবচেয়ে ভালো করতে চান, তবে সবার আগে আমি বলব ক্যাডেট কলেজের কথা। এখানে আপনি প্রত্যেকটা বিষয়ে স্পষ্টভাবে জ্ঞান লাভ করতে পারবেন। এখানে দক্ষ শিক্ষক দ্বারা প্রতিটি ক্লাস নেওয়া করা হয়। মূলত আপনি যদি কোন একটি বিষয়ে বুঝতে না পারেন, তবে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে সেই পড়াটি আপনাকে আবার বুঝিয়ে দেয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়াও আপনারা সহপাঠীদের থেকে সহযোগিতা নিতে পারেন।
আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ক্যাডেট কলেজে একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে, মানসম্মত উপায়ে শিক্ষা প্রদান করা হয়। যা শিক্ষার্থীকে দারুনভবে আকর্ষণ করে। অর্থাৎ এখানে কোন মুখস্থ বিদ্যার শেখানো হয় না। একজন শিক্ষার্থীকে মানসম্মত ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিক্ষা প্রদান করা হয়।
ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবিধা গুলোর মধ্যে আরেকটি হল আবৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করা। প্রত্যেক বছর বিভিন্ন টেলিভিশনে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থীরা বিতর্ক ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। একজন শিক্ষার্থী যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে, তাহলে তার কর্মজীবনের সেটা অনেক ভালো একটি প্রভাব বিস্তার করে। যা আমাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে খুবই কম দেখা যায়।
এছাড়াও কলেজ ক্যাম্পাসে খেলাধুলার মাঠ, লাইব্রেরী,হাসপাতাল ও ক্যান্টিনের সুবিধা রয়েছে ক্যাডেট কলেজগুলোতে। সবথেকে বড় কথা হল ভালো রেজাল্ট করার জন্যই আমাদের পড়াশোনা করা। আপনার সন্তানের সন্তুষ্ট জনক রেজাল্ট অর্জন করুক এটাই কিন্তু আপনার প্রধান চাওয়া। বাংলাদেশের সব থেকে ভালো রেজাল্ট প্রাপ্ত কলেজগুলোর মধ্যে সব সময় ক্যাডেট কলেজ গুলো প্রথম অবস্থায় থাকে। কারণ তাদের পড়াশোনার মান অনেক ভালো। আশা করি, ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবিধা সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেয়েছেন।
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা
ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ জানার পর, আপনার নিশ্চয়ই ইচ্ছা করবে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে আমার কি কি যোগ্যতা গুলো লাগবে। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা যদি আপনার না থাকে। তাহলে আপনার কিন্তু ক্যাডেট হওয়ার স্বপ্নপূরণ হবে না। চলুন দেখে নেই,ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য কি যোগ্যতা গুলো আপনাকে অর্জন করে নিতে হবে।
ক্যাডেট কলেজ যেহেতু সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয় সেক্ষেত্রে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা গুলো বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া তাদের ৬ষ্ঠ শ্রেণী বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর এবং ছেলেমেয়ে উভয়েরই উচ্চতা থাকতে হবে নূ্ন্যতম ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি।
ইতিমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারে নি এমন শিক্ষার্থীরা আবেদনের অযোগ্য। অর্থাৎ আপনি একবার ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় অযোগ্য বলে ঘোষিত হয়েছেন, এখন আর ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে পারবেন না। এ ছাড়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন গ্রস নক নী, ফ্ল্যাট ফুট, বর্ণান্ধ ও অতিরিক্ত ওজন এবং বিভিন্ন রোগ যেমন এজমা, মৃগী, হৃদরোগ, বাত, যক্ষ্মা, পুরনো আমাশয়, হেপাটাইটিস, রাতকানা, ডায়াবেটিসসহ আরও কয়েকটি রোগে আক্রান্ত কেউ আবেদন করতে পারবে না।
ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়ার সহজ উপায়
ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে একটু ভিন্ন। এছাড়া পরীক্ষার্থীর বয়সও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখে। এ কারণেই এই পরীক্ষার পড়াশোনা ও মানসিক প্রস্তুতি একটু আলাদা। ক্যাডেট কলেজে ভর্তিচ্ছু একজন শিক্ষার্থীর উচিত ক্লাস সিক্সের শুরু থেকেই একটু একটু করে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করা।
ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনাকে বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষাতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বর্তমান সময় আপনি ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য আপনার সন্তানকে অনলাইনে পড়াশোনা করাতে পারেন। ক্যাডেট কলেজে চান্স পাওয়ার সহজ উপায় নিয়ে ইউটিউবে অনেক ভিডিও রয়েছে। সেই ভিডিওগুলো আপনি দেখতে পারেন।
ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বয়স
ক্যাডেট কলেজের ভর্তির জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়স সীমা নির্ধারণ করা আছে। ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বয়স প্রার্থীর সর্বোচ্চ ১৩ বছর ০৬ মাস হবে। উচ্চতা: ন্যূনতম ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি (বালক বালিকা উভয় ক্ষেত্রে প্রযােজ্য)। সুস্থ্যতা: প্রার্থীকে অবশ্যই শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ্য হতে হবে।
পরিশেষে কিছু কথা
এই ছিল আজকে আমাদের ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ ও ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি আলোচনা। আশা করি,যে সকল শিক্ষার্থী ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করতে চায়,তাদের জন্য আজকের আর্টিকেল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আজকের আর্টিকেলে আমরা ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ সহ কিভাবে ক্যাডেট কলেজের চান্স পাওয়া যায় তার সবগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি।
এছাড়াও ক্যাডেট কলেজে পড়ার সুবিধা ও ক্যাডেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা সমূহ সবকিছুই আলোচনা করা হয়েছে। তাই আমি বলব একজন ক্যাডেট প্রত্যাশী শিক্ষার্থীর অবশ্যই আমাদের আর্টিকেলটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। আজকের আর্টিকেল আপনি চাইলে ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতে পারেন। ক্যাডেট কলেজে পড়ার খরচ সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন।



