বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় ২০২৩
বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায়- আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে কাজে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিতে হয়। কিন্তু ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে আমাদের অনেক সময় লাগে। এছাড়াও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনাকে প্রায় এক মাস সময় নেবে লোন দিতে। কিন্তু আমাদের বিভিন্ন কাজে খুব তাড়াতাড়ি টাকা দরকার হয়।
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে খুব তাড়াতাড়ি লোন নিতে চান তাহলে অনলাইন থেকে লোন নিতে হবে। ঘরে বসে এক মুহূর্তের মধ্যে লোন নেওয়া কে অনলাইন লোন বলা হয়। অনলাইন থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনাকে কোন কাগজপত্র ও সময় নিতে হবে না। আপনি মুহুর্তের মধ্যেই লোন পেয়ে যাবেন। কিন্তু কিভাবে অনলাইন থেকে লোন নিতে হয় তা অনেকে জানে না। তাই আপনাদের জন্য আজকে বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় ২০২২ নিয়ে আলোচনা করব। চলুন শুরু করা যাক।
বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায়
বাংলাদেশ থেকে আপনি খুব সহজে অনলাইনে লোন নিতে পারেন। কিন্তু এজন্য আপনাকে কিভাবে অনলাইন থেকে লোন নিতে হয় তা জানতে হবে। আমাদের দেশে আপনি বেশ কয়েকটি ব্যাংক থেকে অনলাইনে লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। কিন্তু সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হলো সিটি ব্যাংক।
আপনি সিটি ব্যাংক থেকে খুব সহজে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন নিতে পারবেন। সিটি ব্যাংক থেকে লোন নেওয়ার জন্য আপনার একটি বিকাশ একাউন্ট থাকলে হবে। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সিটি ব্যাংক অনলাইন লোন দিচ্ছে। চলুন সিটি ব্যাংক থেকে বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় জেনে নেই।
সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইন লোন পাওয়ার উপায়
এই ডিজিটাল লোন সার্ভিসটি বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে। অর্থাৎ বিকাশ ব্যবহারকারীরা তাদের বিকাশ অ্যাপে লোনের অপসন দেখতে পাবেন। কিন্তু সবাই এই লোন পাবে না। যাচাই-বাছাই করে লোনের পরিমাণ নির্ধারণ করবে বিকাশ ও সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকরা তাদের বিকাশ অ্যাপে লোন বা লোন আইকন দেখতে পাবেন। লোন নিতে হলে গ্রাহককে তার ই-কেওয়াইসি ফর্মে বিকাশে দেওয়া তথ্য সিটি ব্যাংককে দিতে রাজি হতে হবে। তারপর লোনের পরিমাণ এবং আপনার পিন সহ আপনি অবিলম্বে বিকাশ অ্যাকাউন্টে ডিজিটাল লোনের টাকা পেয়ে যাবেন। এই লোনের জন্য প্রযোজ্য সুদ ও অন্যান্য বিধান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পালন করা হবে।
আপনার জন্য আরো লেখাঃ
বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে বিকাশ লোন পাওয়া যাবে
বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় গুলি নিন্মরূপ:
- বিকাশের অ্যাপে প্রবেশ করুন, MORE অপসন এ ট্যাপ করুন।
- লোনে এ ট্যাপ করুন।
- আপনার তথ্য শেয়ার করার অনুমতি দিয়ে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
- “Take Loan” এ ট্যাপ করুন।
- লোনের পরিমাণ এবং কিস্তির মেয়াদ নির্বাচন করে এগিয়ে যান।
- আপনি ব্যাংক থেকে কত টাকা পেতে পারেন এবং আপনাকে কত টাকা দিতে হবে তা দেখুন, এবং পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
- লোন নির্দেশাবলী এবং নিয়মাবলী পড়ুন এবং “সম্মতি দিন” এ ট্যাপ করুন।
- লোন নিশ্চিত করতে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন দিন।
- লোন নিতে ট্যাপ করে ধরে রাখুন।
উল্লেখিত তথ্যগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করলে বিকাশ লোনের টাকা আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ হয়ে যাবে
বিকাশ লোন যারা পাবে
আগেই বলা হয়েছে, শুধুমাত্র নির্বাচিত বিকাশ গ্রাহকরা ৫০০ টাকা থেকে ২০০০০ টাকা পর্যন্ত এই লোনটি নিতে পারবেন। আপনি একটি বিকাশ লোন পাবেন কিনা তা আপনার ক্রেডিট মূল্যায়নের উপর নির্ভর করবে। সিটি ব্যাংক আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার ডেটা তৈরি ও বিশ্লেষণ করবে। যদি তারা মনে করেন আপনি এই লোন পাওয়ার যোগ্য,তবে আপনি আপনার বিকাশ অ্যাপের এই লোন অপশন থেকে লোন নিতে পারেন।
বিকাশ লোন পরিশোধের নিয়ম
লোন নেওয়ার পরের তিন মাসের মধ্যে নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে একই পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। অর্থপ্রদানের তারিখের আগে গ্রাহক এসএমএস এবং অ্যাপের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি পাবেন।
ঋণগ্রহীতারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করছেন কি না, তাও পর্যবেক্ষণ করা হবে। এটি পরবর্তী লোন বিতরণেও বিবেচনা করা হবে।
গ্রাহক চাইলে নির্ধারিত তারিখের আগে বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের এই লোন পরিশোধ করতে পারেন, এতে সুদের খরচ কমতে পারে। কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত তারিখে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় ব্যালেন্স না থাকলে বা গ্রাহক নির্ধারিত তারিখের আগে লোন পরিশোধ না করলে বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হবে। এই বিলম্ব চার্জ লোনের পরিমাণের উপর 2% (বার্ষিক)।
বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের লোন দেওয়ার উদ্দেশ্য
সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও মাসরুর আরেফিন বলেন, “সবসময় আমরা আমাদের গ্রাহকদের চাহিদার মূল্য দিতে চেষ্টা করি। বাংলাদেশে অনেকের, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হঠাৎ করে টাকার প্রয়োজন হয়। এই ডিজিটাল লোনের যাত্রা মাথায় রেখে কীভাবে এটি তাদের কাছে আরও সহজলভ্য করা যায় এবং তারা যাতে সেই অর্থ সহজে ব্যবহার করতে পারে। আমরা আশা করি আমাদের এই পাইলট প্রজেক্টে অর্জিত অভিজ্ঞতার উন্নতি ঘটিয়ে গ্রাহকদের জন্য আরও ভালো সেবা দিতে সক্ষম হবে। “
এই উদ্যোগ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বিকাশের সিইও কামাল কাদির বলেন, “বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ই-সেবা ব্যবহার করে সৃজনশীল নতুন সেবা চালু করতে পারে।সিটি ব্যাংকের ডিজিটাল লোন স্কিম এর একটি উদাহরণ। আমরা বিশ্বাস করি, জরুরী পরিস্থিতিতে এই অনিরাপদ ঋণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, তরুণ-তরুণী, প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকবে।
উপসংহার
এই ছিল আজকে বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা। বর্তমান সময় আপনি বাংলাদেশ সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে অনলাইন লোন নিতে পারবেন। কিন্তু এজন্য আপনাকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। যারা বিকাশ অ্যাপ এর মাধ্যমে বেশি বেশি টাকা লেনদেন করে। তারা সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে জামানতবিহীন ২০ হাজার টাকা লোন নিতে পারবে।
আপনিও যদি বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নিতে চান। তাহলে আপনাকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। শুধু বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করলে হবে না। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আপনাকে টাকা আদান-প্রদান করতে হবে। বাংলাদেশে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে কোন মন্তব্য থাকলে কমেন্ট করতে পারেন। এরকম ব্যাংকিং বিষয়ক নতুন নতুন আপডেট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
.png)

.jpg)