মালয়েশিয়া মেয়েরা কেমন
মালয়েশিয়া মেয়েরা কেমন– আসসালামু আলাইকুম প্রিয় পাঠক। আবারো হাজির হয়ে গেলাম আপনাদের সামনের নতুন একটি টিউটোরিয়াল নিয়ে। আপনাদের অজানা বিষয়কে জানানোর জন্য আমরা সবসময় কাজ করে থাকি। তেমনি আপনাদের একটি অজানা বিষয় সম্পর্কে আজকে আলোচনা করবো।
মালয়েশিয়া মূলত পর্যটকের একটি দেশ। মালয়েশিয়া দেশের অর্থনীতি অনেক বেশি শক্তিশালী। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ধর্মীয় রীতিনীতি সবদিক থেকে মালয়েশিয়া বিশ্বের সমৃদ্ধশালী একটি দেশ। তেরোটি রাজ্য এবং তিনটি ঐক্যবদ্ধ প্রদেশ নিয়ে মালয়েশিয়া দেশ গঠিত হয়েছে।
আপনাদের সামনে আমরা কেন মালয়েশিয়ার দেশ সম্পর্কে বলছে। কারণ আজকে আপনাদের সামনে মালয়েশিয়া মেয়েরা কেমন তা নিয়ে আলোচনা করব। মালয়েশিয়া মেয়েদের রীতি নীতি সংস্কৃতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা সবকিছু নিয়ে আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করা হবে। তাই দেরি না করে চলুন মালয়েশিয়া মেয়েদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য জেনে নেই।
মালয়েশিয়া মেয়েরা কেমন
পৃথিবীর মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া দেশ অন্যতম। মালয়েশিয়া মেয়েরা মূলত ইসলামী রীতিনীতি মেনে চলে। মালয়েশিয়া দেশের প্রায় ৭০% মুসলিম নারী বসবাস করে। বাংলাদেশের মুসলিম নারীদের চেয়ে মালয়েশিয়া মেয়েরা বেশি ইসলামী রীতিনীতি মেনে চলে। মালয়েশিয়া মেয়েরা সব সময় হিজাব পরিধান করে। এছাড়াও পুরুষের সাক্ষাৎকারে তারা হাত মেলাতে বেশি পছন্দ করেন না। কিন্তু বর্তমানে মালয়েশিয়া মডার্ন কিছু মেয়ে হ্যান্ডসেট করতে পছন্দ করে।
মালয়েশিয়া মেয়েদের অধিকার
মালয়েশিয়ায় মেয়েরা, মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ হতে নিজেদের অধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক কাজকর্ম ইত্যাদিতে সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রগুলো সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি এবং সোশিয়াল ডেভেলপমেন্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। এই মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। ১৯৯৩ সালে এটি হাওয়া নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে এটি উইমেন এফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ে পরিণত হয়।
জাতিসংঘের ২০০৯ সালের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ অব মালয়েশিয়ার পর, সরকার একটি নীতি হাতে নেয় যার নাম দেয়া হয় সিএডিএডাব্লিও। ২০১০ সালে এই নীতি কার্যকর করা হয়। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নারীদের অধিকারের অবস্থা অনেকটা মিশ্র প্রকৃতির। এটি নির্ভর করে মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতির ওপর।
মালয়েশিয়া মেয়েদের খৎনা
নারী খৎনা মালয়েশিয়ায় প্রচলিত আছে। মুসলিম পরিবারগুলোর মধ্যে প্রায় ৯০% পরিবারে এই প্রথা মেনে চলে। কারণগুলো হল ধর্মীয় রীতি, সংস্কৃতি এবং একটি বিশ্বাস, যে এই নারী খৎনা বিয়ের আগে অযাচিত যৌন সঙ্গমকে দূর করবে।
তবে এই খৎনা আফ্রিকার দেশগুলোর মতো ভয়াবহ পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয় না। খুব সামান্য অংশই এতে কাটা হয়।এই খৎনা মূলত ধর্মীয় আঙ্গিকেই বেশি প্রচলিত। ২০০৯ সালে, ফাতওয়া কমিটি মুসলিমদের জন্য নারী খৎনা কে বাধ্যতামূলক করে তবে মাত্রাতিরিক্ত কাটা কে বাদ দিয়ে।
মালয়েশিয়া মেয়েদের বিয়ে
বিয়ের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার নারীদের আইন মেনে বিয়ে করতে হয়। যদিও তাদের অধিকারের ক্ষেত্রে আপোষ করা হয় না। ইসলামিক আইনে বলা আছে, একজন নারী তার স্বামীর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবে। আইন ৫৯এ বলা আছে, একজন নারী তখনই দোষী সাব্যস্ত হবে যখন,
১। যখন সে তার স্বামীর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে ২। যখন স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যেয়ে তাকে ছেড়ে চলে যাবে ৩। কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়া স্বামীর সাথে কোথাও যেতে, ফিরতে অনিচ্ছা বোধ করবে।এছাড়া নারীদের নিজেদের অধিকারের জন্যেও কিছু আইন কার্যকর আছে।
মালয়েশিয়া মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা
২০১০ সালের জড়িপে দেখা যায়, মালয়েশিয়ায় পুরুষের তুলনায় নারীদের স্বাক্ষরতার হার কিছুটা কম। যেখানে নারীদের হার ৯০.৭% এবং পুরুষদের ৯৫.৪%।বর্তমানে সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্যই অনেক বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের তুলনায় আরো অনেক বেশি নারী পড়াশুনা করছে।
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া
পরিশেষে কিছু কথা
এই ছিল আজকে আমাদের মালয়েশিয়া মেয়েরা কেমন তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। ইসলামের রীতিনীতি ও সৌন্দর্যের দিক থেকে বিশ্বের প্রথম অবস্থায় রয়েছে মালয়েশিয়া মেয়েরা। এছাড়াও শিক্ষা ব্যবস্থা, সামরিক শক্তি ও ধর্মীয় রীতি নীতিতে তারা খুবই দায়িত্বশীল।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের বাংলাদেশের মেয়েদের ইসলামিক রীতি-নীতির চেয়ে, মালয়েশিয়া মেয়েদের ইসলামিক রীতিনীতি অনেক বেশি ভালো। অর্থাৎ মালয়েশিয়া মেয়েরা সব সময় ইসলামের রীতিনীতি ও হিজাব পরিধান করে। মালেশিয়া মেয়েরা কেমন পরবর্তীতে কেমন লেগেছে তা কমেন্ট করে জানাবেন।
.jpg)